কাটমানি বিপর্যয় থেকে বাঁচতে তৃণমূল এ বার ব্ল্যাকমানি নিয়ে আন্দোলনে নামতে চলেছে।

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলেছিলেন কাটমানি ফেরত দিতে হবে। সে কথা শোনার পরেই বিভিন্ন পুর, পঞ্চায়েত এলাকায় কাটমানির টাকা ফেরত চেয়ে একের পর এক কাউন্সিলর বা পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে যোগ দেয় বিজেপিও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের নেত্রীর কথায় দলে শুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, কিন্তু বিজেপি এই আন্দোলনের ফয়দা তুলতে মাঠে নেমে পড়ে। বিজেপির যদিও পাল্টা দাবি, সাধারণ মানুষের আন্দোলনে তারা কেবল পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে কাটমানি নিয়ে সেই ধাক্কা শাসক দলের উপরে ভালই পড়েছিল।

সেই পরিস্থিতিতে এ বার কলকাতায় একুশের মঞ্চ থেকে মমতা ডাক দিলেন ব্ল্যাকমানি ফেরত দিতে হবে। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, কাটমানি নিয়ে দল যেটুকু ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল, ব্ল্যাকমানি নিয়ে আন্দোলনে সেই খামতি পুষিয়ে দেওয়া যাবে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্ল্যাকমানি ফেরত চেয়ে আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে বৃহস্পতিবারই মালদহে বৈঠক হবে বলে জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম বেনজির নুর জানিয়ে দিয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে ব্লকে ব্লকে মিছিল ও সভার পাশাপাশি বুথ স্তরেও মিছিল এবং সভা করা হবে। হবে ধর্নাও। বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের এই আন্দোলনকে পাত্তা দিতে নারাজ। বিজেপির দাবি, কাটমানি ইস্যুতে এমনিতেই তৃণমূল এখন দিশেহারা।

মালদহের বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা এখন কলকাতাতেই। সূত্রের খবর, মৌসম ফিরছেন মঙ্গলবার। ২৫ জুলাই দলের জেলা কার্যালয় নুর ম্যানশনেই বৈঠক হবে। মৌসম বলেন, ‘‘নোটবন্দির সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু সে টাকা ফেরত আসেনি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘মোদী গরিবদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে  ১৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই এক টাকা পর্যন্ত ঢোকেনি। তাই বিজেপির এই ধাপ্পাবাজির বিরুদ্ধে দলনেত্রীর ডাকে  তৃণমূল জেলা জুড়ে জোর আন্দোলনে নামবে।’’

বিজেপি মালদহ জেলা সভাপতি গোবিন্দ মণ্ডল অবশ্য বলেন, ‘‘গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পিছু ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে, এমন ঘোষণা আমাদের দলের কেউ কখনও করেননি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আগে কাটমানির হিসাব দিক। আসলে তৃণমূল এখন দেউলিয়া।’’