১০৫ দিনের টানা পাহাড় বন্‌ধ, একের পর এক স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া, তিনধারিয়া ও পাগলাঝোরায় ধসের কারণে দীর্ঘদিন পরিষেবা বন্ধ থাকা— এমন নানা কারণে একসময় ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ’ তকমা হারাতে বসেছিল দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন। সে সব এখন অতীত। বরং যাত্রী সংখ্যার দিক থেকে নতুন পালক জুড়ল টয় ট্রেনের মুকুটে। চালু হওয়ার পরে এই প্রথমবার এক লক্ষ ছাড়ালো ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক প্রণবজ্যোতি শর্মার দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৮-২০১৯ আর্থিক বর্ষে টয় ট্রেন ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৮০ জন যাত্রী পরিবহণ করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে যা ছিল ৬১ হাজার ৩১০ জন। অর্থাৎ, পাহাড়ে বন্‌ধ পরবর্তী এক বছরে দ্বিগুণ যাত্রী বেড়েছে টয় ট্রেনের। 

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে বা ডিএইচআর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড আয়ও বেড়েছে টয় ট্রেনের। প্রণবজ্যোতি জানিয়েছেন, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তাদের আয় ছিল ৬ কোটি ২৩ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা। যাত্রী বাড়ায় পরিষেবা আরও উন্নত করায় নতুন ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ। খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।

পাহাড়ে গোলমালের আগে বাগডোগরার বিমান পরিষেবাও এক লাফে অনেকটা বেড়েছিল। তার পরে বিমানবন্দর সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের কাজও গতি পায়। এ বারে টয় ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা ও আয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় খুশি সকলেই। বস্তুত, পর্যটক টানতে গত বছর থেকেই পরিষেবায় কিছু পরিবর্তন আনেন ডিআইচআর কর্তৃপক্ষ। ২০১৮-র এপ্রিলে প্রথম টয় ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল বাতানুকূল কোচ। চলতি বছর শিলিগুড়ি থেকে রংটং পর্যন্ত সান্ধ্যকালীন বিশেষ ‘জঙ্গল সাফারি’ চালু হয়। চালু হয় ‘ডাইনিং কোচ’ পরিষেবা। সেখানে রুট ও কোচ অনুসারে অনুসারে ট্রেন ভাড়া করে চলন্ত ট্রেনে নিজেদের মতো খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্তও করতে পারেন যাত্রীরা। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

নতুন সব কটি পরিষেবাই জনপ্রিয় হয়েছে বলেই দাবি ডিএইচআর কর্তাদের। বেশ কিছু দিন হল সমতল থেকে পাহাড়েও নিয়মিত চলছে ট্রেন। ডিএইচআরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দার্জিলিং স্টেশন থেকে বাতাসিয়া লুপ পর্যন্ত ‘জয় রাইড’-র প্রায় প্রতিটি ট্রিপই যাত্রীতে ঠাসা থাকছে। 

ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এনজেপি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিঙের মধ্যে মোট দু’টি ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। জয় রাইড চলছে মোট ৯টি। যার মধ্যে ৬টি কয়লা ও ৩টি ডিজেল ইঞ্জিনে। প্রণবজ্যোতি বলেন, ‘‘পরিষেবা আরও উন্নত করতে যাত্রীদের পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। আমরাও কিছু পরিকল্পনা করছি। প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসছেন। তাঁদের চাহিদার কথাও আমরা জেনেছি।’’ জিটিএ-র প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনয় তামাং বলেন, ‘‘পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে। তাই পর্যটকদের ঢল নেমেছে। টয় ট্রেনের পরিষেবা আরও সমৃদ্ধ হোক, এটাই চাই।’’ পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘টয় ট্রেনের রেকর্ড উত্তরের পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দেবে।’’