নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাই ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হল পুরাতন মালদহের তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বশিষ্ঠ ত্রিবেদী সহ বিক্ষুব্ধ তিন প্রার্থীকে।

শনিবার দুপুরে দলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁদের বহিষ্কারের কথা জানালেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘দল বিরোধী কাজ করলে কেউ ছাড় পাবেন না। পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকার নেতাদের বাড়িতে গিয়ে বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে নির্দল হয়ে লড়ছেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কথা শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিকে জানানো হয়েছিল। তারপরেই তাঁদের ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।’’

তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তে অবশ্য আদৌ ভাবিত নন বহিষ্কৃত নেতারা। দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বলেন, ‘‘আমরা আগে দল ছেড়ে দিয়েছি। তার জন্য তো নির্দল থেকে লড়ছি। এখন এই দলটি পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। পরিবারের লোকেরা টিকিট পাচ্ছে। তারা বলছেন আমরা যোগ্য প্রার্থী নই। আমরা যোগ্য কিনা তা পুরভোটের ফলাফলেরই পর জানা যাবে।’’

পুরাতন মালদহ পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান তথা টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিভূতি ভুষণ ঘোষের বিরুদ্ধেও পরিবার তন্ত্রের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি বশিষ্ঠবাবু।

পুর ভোটের টিকিট না পেয়ে বশিষ্ঠ বাবু সহ পাঁচ জন নেতা কর্মী নির্দল থেকে দাঁড়ানোর সিন্ধান্ত নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। তাঁরা মনোনয়ন পত্র দেওয়ার পরই তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন দলের জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা তাঁকে ফিরিয়ে দেন। এরপরেই জেলা সভাপতি পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে জানান।

পুরাতন মালদহ পুরসভার ৫ নম্বর ওর্য়াড থেকে বশিষ্ঠ বাবু, ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তাঁর অনুগামী তথা দলের সক্রিয় কর্মী মিষ্টার শেখ, ১০ নম্বর ওর্য়াড থেকে দলের সংখ্যালঘু সেলের টাউন সভাপতি আনিসুর রহমান, ২০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সাফিকুল ইসলাম এবং ১১ নম্বর ওর্য়াড থেকে শহরের নেত্রী সপ্তমী ঘোষ নির্দল হয়ে লড়ছেন। এই পাঁচ জনের মধ্যে বশিষ্ঠ বাবু, আনিসুর রহমান ও সাফিকুল ইসলামকে ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকি দুই জনের প্রসঙ্গে জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘‘এরা দলের কোন পদে ছিলেন না। কিংবা সক্রিয় কর্মীও ছিলেন না। তাঁরা নির্দল থেকে লড়লে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। আমরা অবশ্য ভাল ফল করব।’’

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মী তথা ২০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী সাফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিভূতিবাবু পরিবার তন্ত্র কায়েম করেছেন। তাঁর পরিবার থেকেই ৫ জনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। আমরা লড়াই করেছি। দল বহিষ্কার করলেও মানুষ আমাদের পাশে রয়েছে। আশা করি মানুষ আমাদের সমর্থন করবে।’’ বিভূতিবাবু বলেন, ‘‘আমি আগেও বলেছি, ওঁরা নির্দল থেকে দাঁড়ালে দলের ক্ষতি হবে না।’’