দুই শিশুকে ইকো কার্ডিওগ্রাফ করার আগে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওযুধ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের রঘুনাথপুর ট্যাঙ্কমোড় এলাকার ওই ক্লিনিকে দু’টি শিশুই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার শিশুর পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে। তিনি বলেন, ‘‘ঘুমের ওষুধের ওভারডোজ থেকে ওই ঘটনা বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

এ দিন শহরের শিবতলি এলাকার বাসিন্দা প্রতীকরাম মণ্ডল ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘১ মাস ২২ দিনের শিশু কন্যাকে হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে ট্যাঙ্কমোড়ের ওই বেসরকারি ক্লিনিকে ইকো কার্ডিওগ্রাফি করাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে আমাদের সামনে ওই ক্লিনিকের ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়ে এক কর্মী প্রায় ১০ মিলিলিটার ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সে নেতিয়ে পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় খোঁজ নিয়ে আমরা জানতে পারি ওই ঘুমের ওষুধ ২-৩ মিলিলিটার স্বাভাবিক ডোজ।’’ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ করেন প্রতীকবাবুর। শিশুর শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে দেখে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা ভর্তি করে নেন। একই রকম গাফিলতির শিকার অন্য এক শিশুকেও এ দিন বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। প্রতীকবাবুর অভিযোগ, এ দিন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জমা দিতে গিয়ে তাঁরা দেখেন ওই ক্লিনিকের মালিক সিএমওএইচের ঘরেই বসে। তাঁদের দেখেই তিনি বেরিয়ে যান। ক্নিনিকের মালিকের কোনও বক্তব্য মেলেনি। তবে ক্লিনিকের চিকিৎসক সুশীল কুমার অভিযোগ অস্বীকার করেন।