দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ব্রিগেড সমাবেশ করবেন, তার প্রচারে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই প্রস্তুতি সভা হিসেবে বুধবার দিনহাটার আটিয়াবাড়িতে সভা করার কথা ছিল কোচবিহারের সাংসদ তথা জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের। এ দিন ভোররাতে সেই সভামঞ্চে কেউ বা কারা ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বোমা ছুড়ে এলাকায় ত্রাসের চেষ্টা চলে বলেও দাবি স্থানীয়দের। তবে এলাকার লোকজন শব্দ পেয়ে বার হয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পিছনে যুব তৃণমূলের দু’টি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে এলাকাবাসীদের একাংশই অভিযোগ তুলেছে। 

পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে যুব তৃণমূলের দ্বন্দ্বে তপ্ত কোচবিহার। বিশেষ করে দিনহাটা অঞ্চলে। সেখানে যুব তৃণমূলের নেতৃত্ব ছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। সম্প্রতি তাঁকে দল বহিষ্কার করেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছিলেন পার্থবাবু। তার পরে দিনহাটায় তাঁর প্রথম বড় সভা ছিল এ দিন। 

অভিযোগ, ভোর রাতে একটি গাড়ি এবং দু’টি মোটরবাইকে চেপে কয়েক জন হাজির হয় মঞ্চের কাছে। গাড়ি থেকে নেমে বোমা ছুড়তে ছুড়তে মঞ্চের কাছে পৌঁছে প্যান্ডেলের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। ভাঙচুরও করে। শব্দ পেয়ে আশেপাশে থেকে লোকজন বেরোতে শুরু করলে তারা পালিয়ে যায়। আগুন বেশি ছড়ানোর আগে নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয়রাই। 

এলাকার মানুষের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে যুবর দুই গোষ্ঠী থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তাঁদের বক্তব্য, দিনহাটায় নিশীথের প্রভাব এখনও যথেষ্ট। সেখানে পার্থের সভা বানচাল করতেই নিশীথের অনুগামীরা আগুন লাগিয়ে থাকতে পারেন। 

এ দিন শেষ অবধি সভা করেছেন পার্থ। তিনি সেখান থেকে বলেন, “ওই ঘটনার পিছনে দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।” বহিষ্কৃত নেতা নিশীথও দুষ্কৃতীদেরই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “সবাই মিলেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার প্রচার করছি। যারা বাধা দিতে এমন কাজ করছে, তারা দুষ্কৃতী ছাড়া কেউ নয়।”

দলের অন্য নেতারাও দ্বন্দ্বের কথা উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, “দলের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। ওই ঘটনা সমাজবিরোধীদের কাজ। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।” সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়াও বলেন, “এখানে কোনও বিরোধ নেই। দুষ্কৃতীরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।” নিশীথবাবুর ঘনিষ্ঠ যুব তৃণমূলের দিনহাটা-১ ব্লকের নেতা নারায়ণ শর্মা বলেন, “নিশীথবাবুকে বহিষ্কারের পর তাঁকে নানা ভাবে কালিমালিপ্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুব’র কিছু সদস্য। কেউ কেউ নিজেদের ব্লকের যুব নেতা পরিচয় দিয়ে সাংসদের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি ভাল করার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনার পিছনে তাঁদেরই হাত রয়েছে।” দিনহাটার এসডিপিও উমেশ গণপত বলেন, “ওই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”