সফরসূচিতে বলা হয়েছিল ৩১ডি জাতীয় সড়কের ৭০ কিলোমিটার অংশের শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার শিলান্যাসের অংশ কমে হয়ে গেল ৪১.৭ কিলোমিটার। ঘোষপুকুর থেকে সলসলাবাড়ির রাস্তার বদলে শিলান্যাস হল ফালাকাটা থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার।

শুক্রবার দুপুরে ময়নাগুড়ির চূড়াভান্ডারে সভার শুরুতেই রাস্তার কাজের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘ফোরলেনের জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি বরাদ্দ হয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে-২ এবং এশিয়ান হাইওয়ে-৪৮ কাজ চলছে। এ সবই উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন করেছে। কাজ চলছে।’’

নরেন্দ্র মোদীর এই দাবির পরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনই কলকাতায় তিনি বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের জমির জন্য আমি আর গৌতম দেব অন্তত ৫০ বার বৈঠক করেছি।’’ বাজপেয়ী আমলের প্রকল্পের কাজ করে মোদী নিজের ঢাক পেটাচ্ছেন বলেও জানান মমতা।

ন্যাশনাল হাইওয়ে ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট, পর্ব-২-এর (এনএইচডিপি) অধীনে থাকা ফোরলেনের রাস্তাটির জন্য কেন্দ্রের তরফে ১৯৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। মঞ্চে জায়েন্ট স্ক্রিনে প্রকল্পের প্রস্তাবিত ছবি দেখানো হয়েছে। এই প্রকল্পে তিনটি রেল ওভারব্রিজ, ২টি উড়ালপুল, ৩টি আন্ডারপাস, ৮টি বড় এবং ১৭টি ছোট সেতু তৈরি করা হবে। আলিপুরদুয়ারের সলসলাবাড়ি থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব কমবে ৫০ কিমি।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ১৯৮৮ সালে এনএইচডিপি প্রকল্পের আওতায় ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের কাজ শুরু হয়েছে। শিলচর থেকে পোরবন্দর অবধি ফোরলেনের কাজের মধ্যেই রয়েছে এটিও। বাম আমলেই ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ফালাকাটা, পলাশবাড়ি এবং সলসলাবাডিতে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেবকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একাধিকবার ওই এলাকায় গৌতমবাবু বৈঠক করেছেন। কলকাতাতেও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। এ দিন গৌতমবাবু বলেন, ‘‘বহু পুরনো ইস্ট ওয়েস্ট করিডরের কাজ এটা। মোদী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে ভুলে গেলেন। ওঁর পক্ষেই এসব সম্ভব।’’