চিকিৎসকের গাফিলতিতে এক অস্থায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শ্রমিকের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতের এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় বাগানে৷ পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চা-বাগানের মৃত ওই অস্থায়ী শ্রমিকের নাম সীতামনি কুজুর (৫৬)৷ বুধবার রাতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি ৷ অভিযোগ, সেই সময় নিজের আবাসনে থাকা বাগানের চিকিৎসক তুষার রায়কে বাগান শ্রমিকরা ডাকাডাকি করলেও তিনি যেতে রাজি হননি৷ এরপরই নরেন কুজুর নামের এক ব্যক্তি ওই চিকিৎসককে মারধর করে। নরেনের স্ত্রী বাগানের কর্মী হলেও নরেনের সঙ্গে বাগানের কোনও সম্পর্ক নেই৷ তুষারবাবু নরেনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷

জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি তুষারবাবু অভিযোগ করেন, “রাত দশটা-সাড়ে দশটা নাগাদ দুটি ছেলে আমার বাড়িতে এসে বলে, আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়া এক মহিলার অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক৷ আমি সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাগানের অ্যাম্বুল্যান্সে করে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি৷ ওরা জানায়, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা গাড়ি জোগাড় করে ফেলেছেন৷ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নরেন কুজুর এসে কেন আমি অসুস্থ রোগীকে দেখতে গেলাম না সেই প্রশ্ন তুলে আমায় বেধড়ক মারতে শুরু করে৷ তারপর আমি ওই মহিলার আবাসনে যাই ৷ কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে৷”

নরেন কুজুরের ছেলে বিমলের পাল্টা অভিযোগ, “চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি যখন প্রস্তুতই রয়েছে তখন আমি রোগী দেখতে যাব না৷ এরপরই আমার বাবা গিয়ে ওই চিকিৎসককে দুটি চড় মেরে রাজি করান৷ ততক্ষণে বিনা চিকিৎসায় সীতামনি কুজুর মারাও গেছেন ৷”

বাগানের ম্যানেজার সরফেজ ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘চিকিৎসক নিজে থেকে সময় নষ্ট না করে বাগানের অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে পাঠাতে উদ্যোগী হনন৷ বাগানের পক্ষ থেকেও নরেন কুজুরের নামে একটি অভিযোগ করা হবে ৷’’

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার আকাশ মেঘারিয়া জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের হয়েছে৷ অভিযুক্তকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।