ওয়ার্ডে হেপাটাইটিস-বি রোগীকে ইঞ্জেকশন দিয়ে সিরিঞ্জটা সবে বার করেছেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। ঘর পরিষ্কার করার সময়ে আচমকা হুমড়ি খেয়ে পড়লে সেই সিরিঞ্জেরই খোঁচা লাগে তাঁর শরীরে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এমনই ঘটনা ঘটেছে। সেই সাফাইকর্মীর সংক্রমণ রুখতে এখনও চিকিৎসা চলছে।

এই ঘটনার পরেই হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত সব অস্থায়ী কর্মীদের বিনা খরচে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের টিকা দেওয়ার আর্জি পেশ হয়েছে। এডস রোগীদের চিকিৎসা যেখানে হয়, সেখানেও যাতে সাফাইয়ের সময় গ্লাভস, গামবুটের মতো সরঞ্জাম যথেষ্ট থাকে তা নিশ্চিত করার অনুরোধও করেছে সিডব্লিইউ।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার কৌশিক সমাজদার বলেছেন, ‘‘সিরিঞ্জের খোঁচা লাগার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। তা জানামাত্রই ওই স্বাস্থ্যকর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’

বর্তমানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন ২০০ জন। তাঁদের অফিস থেকে শুরু করে অপারেশন থিয়েটার, সর্বত্রই কাজে লাগানো হয়। সিডব্লিইউয়ের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ শাখার সহ সভাপতি প্রশান্ত সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের নানা টিকা দেয় হাসপাতাল। আমাদের ইউনিয়নের সকলকে দিলে কিছু রোগের ক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন।’’

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রেই জানা গিয়েছে, কর্মীদের সকলকে হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন দিতে খুব বেশি খরচ হবে না। সে জন্য রোগী কল্যাণ সমিতিও সেই ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান, কর্মীদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ যাতে থাকে তা নিশ্চিত করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। শিলিগুড়ির বিশিষ্ট শল্য চিকিৎসক শৈলজা গুপ্ত বলেন, ‘‘আমরা তেমন হলে নিজেরাই হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন নিয়ে থাকি। ওই ধরনের ছোঁয়াচে রোগের চিকিৎসায় যুক্তরা সেটি নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় থাকে না।’’