বন্ধুদের সঙ্গে ভুবনেশ্বর থেকে পুরী বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেল শিলিগুড়ির এক ছাত্র। গত ২ সেপ্টেম্বর পুরীতে ওই ঘটনা ঘটলেও ওড়িশা পুলিশ ঘটনায় সে রকম গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলছে দেবমাল্য রায় নামে ওই ছাত্রের পরিবার। শিলিগুড়ির সুভাষপল্লি থেকে মাত্র দেড় মাস হল ভুবনেশ্বরে পড়তে গিয়েছিল দেবমাল্য। 

গত ২ সেপ্টেম্বর হস্টেলের কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে পুরীর সমুদ্রে নেমে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন দিল্লির রেসিডেন্ট কমিশনারের কাছে করার পর পরিবারের কাছে লিখিত অভিযোগ নিয়েছে ওড়িশা পুলিশ। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে দেবমাল্য। পুরো পরিবার ওড়িশায় উদ্বেগের মধ্যে কাটাচ্ছে। 

শিলিগুড়ির সুভাষপল্লির বছর তেইশের দেবমাল্য কমন অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়ে সুযোগ পেয়েছিল ভুবনেশ্বরের একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজমেন্ট পড়ার। গত দেড় মাস হল ভুবনেশ্বরে হস্টেলেই থাকত। পরিবার সূত্রে দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর সে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে পুরি বেড়াতে গিয়েছিল। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে আর ওঠেনি। 

দেবমাল্যর কাকা তথা জলপাইগুড়ির বাসিন্দা মৌসম রায়ও এখন ওড়িশায়। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ ঘটনাটিকে নথিভুক্ত করলেও সে রকম ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বন্ধু-বান্ধবদের ভাল ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার, তা হচ্ছে না। আমরাই নুনিয়া নিয়ে পুরির আশেপাশের সবগুলি সৈকতে খুঁজে বেড়াচ্ছি ভাইপোকে।’’ শিলিগুড়ি থেকে ঘটনাস্থলে দেবমাল্যর দাদা দেবদর্ষি এবং তার বাবা অমিতবাবু এবং মা স্বাতীও গিয়েছেন। তাঁদের দাবি, লিখিত অভিযোগটুকুও পুরীর পুলিশ নিতে চাইছিল না। শুক্রবার দিল্লিতে রাজ্যের রেসিডেন্ট কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করে পুরী পুলিশের আধিকারিকরা। তবে তারপরেও তল্লাশি অভিযান সন্তোষজনক হচ্ছে না বলে দাবি ওই পরিবারের সদস্যেদের। 

দেবমাল্যর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে পুরী গিয়ে সে দিন সকাল পৌনে নটা নাগাদ বাবা অমিতবাবুকে ফোন করেছিল ওই ছাত্র। দেবমাল্যর কাকা মৌসম বলেন, ‘‘দাদা ফোনে বার বার ভাইপোকে বলেছিল। সমুদ্রে নেমো না। সেই সমুদ্রে নামাই বিপদ ডেকে নিয়ে এল।’’ 

দেবমাল্য কোথায় রয়েছেন, বন্ধুদের সঙ্গে কোনও ঝামেলা হয়েছিল কি না, কোনও বন্ধুর সঙ্গে কোনও শত্রুতা তৈরি হয়েছিল কি না, এ সব কিছুই জানতে পারছে না তার পরিবার। পরিবারের এই অভিযোগ নিয়ে পুরীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রতাপ সোয়াইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএস করেও জবাব পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে চূ়ড়ান্ত মানসিক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে দেবমাল্যর পরিবার।