অবহেলায় বন্দি বক্সা

ভারত-ভুটান সীমান্তে দুর্গম সিমচুলা পাহাড়ে জাতীয় স্মারক বক্সা বন্দি শিবির সংরক্ষণের অভাবে বর্তমানে তা খণ্ডহরের রূপ নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস এখানে কথা বলে। ১৮৬৪ তে দ্বিতীয় ভুটান যুদ্ধের পর বৃটিশরা ভুটানিদের এই দুর্গটি দখল করে। ভুটানি সৈন্যদের উপর নজর রাখার জন্য  শুরু হয় সেনানিবাস তৈরির কাজ। ২৬০৩ ফুট উঁচুতে দুর্গের তিন দিকে তিনটি নজরমিনার (নর্থ ওয়েস্ট পিক, ম্যাগডালা হিল পিকেট ও কনসিলড হিল পিকেট) গড়া হয়। ১৮৬৫-তে সিঞ্চুলা চুক্তিতে শেষ হয় দ্বিতীয় ভুটান যুদ্ধ। দুর্ভেদ্য বক্সা দুর্গ ইতিহাসের আলোয় আসে তিরিশের দশকে। বৃটিশ সরকার ডিটেনশন ক্যাম্প হিসাবে এই দুর্গকে ব্যবহার করতে শুরু করে ১৯৩১ সাল থেকে। বিনা বিচারে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আটকে রাখা হত এখানে।

অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স-এর বহু বিপ্লবী একসময়ে বন্দি ছিলেন এখানে। ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত বন্দি ছিলেন ৫২৫ জন। প্রথম পর্বের স্মরণীয় ঘটনা, বন্দিদের রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন।   কবিকে জন্মদিনের অভিনন্দন বার্তাও পাঠিয়েছিলেন বিপ্লবীরা। কবি তখন দার্জিলিংয়ে। প্রত্যুত্তরে কবি লিখলেন‘অমৃতের পুত্র মোরা কাহারা শোনাল বিশ্বময়। আত্মবিসর্জন করি আত্মারে কে জানিল অক্ষয়।’ ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬, হিজলি জেলে বিপ্লবীদের উপর গুলি চললে মারা যান সন্তোষ মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্ত। প্রতিবাদে অনশনে বসেন বক্সার বিপ্লবীরা। বিয়াল্লিশের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময়ে রংপুরের জেল থেকে বিপ্লবীদের নিয়ে আসা হয় এখানে। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা হলে নিরাপত্তা আইনে বহু বামপন্থী নেতা ও কর্মীকে এখানে অন্তরীণ করে রাখা হয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন বিনয় চৌধুরী, সতীশ পাকড়াশি, আবদুল হালিম, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, কবি পারভেজ শাহিদী।  ১৯৫৯ সালে তিব্বতে চিনের হানাদারির পরিপ্রেক্ষিতে বক্সায় বহু তিব্বতি উদ্বাস্তু এলে ভারত সরকার দুর্গটিকে উদ্বাস্তু শিবিরে পরিণত করে। তা চালু ছিল ১৯৭০ পর্যন্ত। সেই বক্সা দুর্গ এখন অবহেলায় পড়ে রয়েছে।  ইতিহাসবিদ আনন্দগোপাল ঘোষের মতে, জাতীয় স্মারক শুধুমাত্র ঘোষণাই করা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের নজরদারিতে সংস্কার হলে এটি রক্ষা পাবে।  প্রসঙ্গত, ১৯ থেকে ২৫ শে নভেম্বর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সপ্তাহ’ পালিত হয়েছে।

 

পঞ্চাশ পেরিয়ে

সালটা ১৯৬৪। জলপাইগুড়ি তখন তস্য মফস্সল শহর। সেই শহরের আনন্দচন্দ্র মহাবিদ্যালয় একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করল। কী সেই উদ্যোগ? শেক্সপিয়রের চারশোতম জন্মদিন পালন। শুধু উত্তরবঙ্গ কেন,পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোনও মহাবিদ্যালয় এমন উদ্যোগ নিয়েছিল কিনা বলা কঠিন। দিনটি ছিল ২৩ এপ্রিল, অর্থাত্‌ শেক্সপিয়রের জন্মদিন। শহরের কাঁঠালগুড়ি ভবনে অনুষ্ঠিত হল আন্তঃবিদ্যালয় নাটক প্রতিযোগিতা। ছাত্ররা মঞ্চস্থ করল জুলিয়াস সিজার। ছাত্রীরা মার্চেন্ট অব ভেনিস। ওই দিন একটি প্রদর্শনীও আয়োজন করা হয়। শেক্সপিয়রের নাটকের বিভিন্ন দৃশ্য এবং বিদেশে যে কুশীলবরা সেইসব দৃশ্যে অভিনয় করেছেন, তাঁদের আলোকচিত্র ঠাঁই পেয়েছিল এই প্রদর্শনীতে। ৫০ বছর পেরিয়েও তার স্মৃতি অম্লান।

 

বনবাংলোর বই

যে কোনও বনবাংলোর একটি বড় সম্পদ হল ‘ভিজিটর্স বুক’ -- যে বইয়ে অতিথিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা যে বইতে লিখে রাখেন। শতবর্ষ প্রাচীন গরুমারা বনবাংলোর  ভিজিটর্স বুক, ১৯০৮ সালে তৈরি রায়ডাক বনবাংলোর ভিজিটর্স বুক পড়ে দেখার ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু সে সব বই কোথায় রাখা আছে, তা বাংলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা জানাতে পারেননি। বন দফতরের ‘বিটবাবু’ হদিশ দিলেন জলপাইগুড়ির অরণ্যভবনে সে বই খোঁজ করা যেতে পারে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, ডিএফও ‘ব্যস্ত’, বড়বাবু মেজবাবুও নানা কাজে ব্যস্ত। কেউ আবার বললেন, “ভিজিটর্স বুক দিয়ে হবেটা কী! যত সব পাগলামি।” ভুটানঘাট বনবাংলো ভস্মীভূত, জয়ন্তীর বাংলোও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। নিমাতির বনবাংলোটিও বয়সের ভারে জরাজীর্ণ। সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে এখন আর বাংলো সম্ভবত এখন আর তৈরিও হয় না। এই সব বনবাংলো সংরক্ষণ করা না হলে শেষ হয়ে যাবে। আর তার কাঠামো সংরক্ষিত হলেও, ভিজিটর্স বুক হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে অমূল্য ইতিহাস। সেই বইগুলো  খুঁজে বার করা কি বনদফতরের পক্ষে এতই কঠিন?

 

অচ্ছুত্‌ কন্যা

আইদেও সন্দিকই। অসমিয়া চলচ্চিত্রের প্রথম নায়িকা। ১৯৩৫ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম অসমিয়া ছবি ‘জয়মতী’-র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রক্ষণশীল পরিবারের মেয়েটি। কিন্তু খ্যাতি নয়, ইতিহাস গড়ার মাসুলই তাঁকে গুনতে হয়েছে আজীবন। গোঁড়া অসমিয়া সমাজে তাঁর পাণিগ্রহণ করেননি কেউ। বরং একঘরে করে রেখেছিল তাঁকে। চলচ্চিত্র জগতে পথিকৃত্‌ অথচ চূড়ান্ত বঞ্চিত এই অভিনেত্রীর জীবনের অজানা কথা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘দি মুভিং ইমেজ অ্যান্ড অ্যাসামিজ কালচার: জয়মতী, জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা অ্যান্ড অ্যাসামিজ সিনেমা (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। লিখেছেন অসম স্টেট ফিল্ম ফিনান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ববিতা শর্মা। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির জামাই সাহিত্যিক লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, অসম রাজপরিবারের কাহিনী নিয়ে লিখেছিলেন ‘জয়মতী’ নাটক। সেই নাটক অবলম্বনে ছবি তৈরির স্বপ্ন দেখেন রূপকোঁয়ার জ্যোতিপ্রসাদ অগ্রবাল। ছবি তৈরির ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল নামভূমিকায় অভিনেত্রী পাওয়া।

তখন গুণগ্রাহী ডিম্ব গোঁহাই গোলাঘাটের পানি দিহিঙিয়া গ্রাম থেকে নিজের ১৩ বছরের ভাইঝিকে নিয়ে এলেন। জাহাজ দেখাবার লোভ দেখিয়ে ওই কিশোরীকে সোজা ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে নিয়ে আসেন তেজপুরের ভেলাগুড়ি চা বাগানে। সেখানেই ছিল জ্যোতিপ্রসাদের চিত্রবন স্টুডিও। ভয় পেয়ে কাঁদতে থাকা আইদেওকে শান্ত করার জন্য তাঁর বাবাকেও স্টুডিওয় নিয়ে আসেন অগ্রবাল। মাসখানেক ধরে চলে শুটিং। ১৯৩৫ সালের ১০ মার্চ, কলকাতার রৌনক সিনেমা হলে ‘জয়মতী’র প্রিমিয়ার শো হয়।  ততদিনে সমাজ আইদেওকে একঘরে করে দিয়েছে। সিনেমায় সহ-অভিনেতাকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করা নাকি মস্ত অপরাধ ছিল তাঁর। এরপর বিয়ে হওয়ার আর কোনও প্রশ্নই ছিল না।

গ্রামের একপাশে তার জন্য কুঁড়ে তৈরি করে দেন বাবা নীলাম্বর। গ্রামের পুকুর থেকে জল নেওয়ার অধিকারও ছিল না। এভাবেই কেটে যায় ৫০ বছর। বিস্তৃতির অন্ধকারে চলে যাওয়া আইদেও-এর উপরে ফের খানিক আলো পড়ে ১৯৮৫ সালে। অসমিয়া চলচ্চিত্রের সূবর্ণজয়ন্তীতে রাজ্য সরকার আইদেওয়ের হাতে ‘জয়মতী’ ছবির অবশিষ্ট প্রিন্টের ক্যাসেট তুলে দেয়।  সেই প্রথমবার ‘জয়মতী’ দেখেন তিনি। সেই বছর থেকেই চালু হয় মাসে হাজার টাকার পেনশন। শেষ জীবনে গোলাঘাটের কামারগাঁওতে এক ভাইপোর বাড়িতে ঠাঁই পেয়েছিলেন।  রাজ্য সরকার ‘পদ্মশ্রী’র জন্য তাঁর নাম সুপারিশ করলেও মাত্র একটি ছবির নায়িকাকে এই সম্মানের যোগ্য বিবেচনা করা হয়নি। সকলের চোখের আড়ালে ২০০২ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রয়াত হন তিনি।

 

শালবাড়ির স্কুল

শিলিগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে শালবাড়ির ‘উডরিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’-এর বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ফিউশন-২০১৪’ হল পাথরঘাটার রাজপৌরিতে। ২৮ নভেম্বরের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মনোজ ত্যাগী। আরপি সিংহ, তারাবতী অগ্রবাল ছিলেন বিশেষ অতিথি। শিশুদের সার্বিক বিকাশের উপরে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা। অধ্যক্ষ বিনোদ কুমার রাই স্কুলের এডুকেয়ার প্রোগ্রামের উপরে কী ভাবে জোর দেওয়া হয় তা বাখ্যা করেন। পড়ুয়াদের মধ্যে যে সৃজনশীল প্রতিভা রয়েছে তা যাতে বিকশিত হতে পারে সে জন্যই ‘ফিউশন’-এর আয়োজন বলে তিনি জানান। ক্লাস থ্রি-র পড়ুয়া সম্ভাবী সৌরভীর ভারতনাট্যম দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। হিন্দি, নেপালি, বাংলা, গুজরাতি ভাষার গান ও নাচের মাধ্যমে শ্রোতা-দর্শকদের মন কেড়ে নেয় পড়ুয়ারা। দুটি উপভোগ্য নাটক ‘চতুরনর’ ও ‘রাশিফল’ উপভোগ্য হয়েছে। স্কুল-ব্যান্ডের কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ করতেই হয়।

 

পড়ুয়াদের ধন্যবাদ

হাতে ধরা পরপর পাঁচটি পোস্টার। কাগজ কেটে তৈরি করা ‘স্মাইলি’ পোস্টারগুলির উপরে। লাল রঙে আঁকা ভালবাসার চিহ্ন। প্রতিটিতে দু’টি করে ইংরেজি শব্দ। পাঁচ পড়ুয়ার হাতে ধরা সেই পোস্টার জুড়লে যে লেখাটি ফুটে ওঠে তা হল--“ধন্যবাদ। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।” পোস্টার হাতে তাদের সামনে তখন বসে রয়েছেন স্কুলের অধ্যক্ষা-সহ পাঁচ জন। নাচে, গানে, পোস্টার লেখায় পড়ুয়ারা তাঁদের জানাল, এতদিন ধরে আপনারা আমাদের পড়িয়েছেন। পথ দেখিয়েছেন। তার জন্য ধন্যবাদ। গত শুক্রবার বিশ্ব ‘থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র অনুষ্ঠানে এমনই দৃশ্য দেখা গেল শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার সেন্ট যোসেফ স্কুলে। সে দিন স্কুলেও আয়োজন করা হয়েছিল একটি অনুষ্ঠান। বাসুদেব পাল, লক্ষ্মী চার, অ্যানি পি আব্রাহাম এবং অওয়াধেশ্বর প্রশান্তি সিংহকে পড়ুয়ারা ধন্যবাদ জানায়। ওঁরা সকলেই স্কুলেরই শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পরেও স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

 

পাথরের টানে

পাথর দু’টির গায়ে যেন লেপ্টে রয়েছে শিখর ছোঁয়ার অমিত সাহস।  দার্জিলিংয়ের লেবং কার্ট রো-এ তেনজিং রক ও গম্বু রক এই দু’টি পাথর এখন পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। পাথর দু’টি একটি আরেকটির বিপরীতে অবস্থিত। দার্জিলিং হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট পর্বতারোহণের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পর্বের জন্য প্রথমে তেনজিং রককেই বেছে নিয়েছিলেন। ডান দিকে উপরের বিস্তৃত জায়গাটি এইচআইএম-এর রক ক্লাইম্বিং ট্রেনিং এরিয়া বলে চিহ্নিত। পর্যটকরা সাধারণত ওই অংশটিতে গাইডের সাহায্যে পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতা নেন। বাঁ দিকের খাড়া অংশটি পেশাদার পর্বতারোহীদের জন্য নির্দিষ্ট। সেটিতে পাহাড়ে চড়ার নানা কৌশল তেনজিং নিজেই এক সময় শেখাতেন। উল্টো দিকে রয়েছে দু’বার এভারেস্টজয়ী নওয়াং গম্বুর নামাঙ্কিত ‘গম্বু রক’। বর্ষার মরসুম বাদে সারা বছরই চলে প্রশিক্ষণ। পাথর দু’টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবকেরা গাইডের কাজ করে রোজগারের মুখও দেখেছেন।

 

ভরসা থাকুক

মানুষের সঙ্গে তাঁর নানা সম্পর্ক।  কখনও তিনি চিকিত্‌সক, আশেপাশের মানুষ তাঁর রোগী। কখনও তিনি লেখক, স্থানীয় বাসিন্দারা পাঠক। কখনও বা তিনি পরিচালক-অভিনেতা, অন্যরা দর্শক। এত করেও ক্ষান্ত হননি তিনি। এ বার তাঁর উদ্যোগে তৈরি হল ‘ভরসা।’ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য চালু  ক্লিনিক। যেখানে প্রতি মাসের শেষ শনিবার বিনামূল্যে নানা পরীক্ষা তো হবেই, বেশ কিছু ওষুধও তুলে দেবেন বয়স্কদের হাতে। এমন বিচিত্রকর্মা মানুষটির নাম উজ্জ্বল আচার্য। দিনহাটা হাসপাতালের চিকিত্‌সক। বয়স চল্লিশের কোঠায়। উত্‌সাহে কমতি নেই -- দিনহাটায় কোথাও চিকিত্‌সা শিবির হলে তিনি হাজির থাকেন সবার আগে। তা সে গ্রামের কোনও প্রত্যন্ত এলাকা বা নিষিদ্ধপল্লি, যাই-ই হোক না কেন। ভরসা ক্লিনিকের চালু করে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর কথায়, “বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের শরীরের সমস্যা বাড়তে থাকে। কেউ ব্লাড প্রেশার, কেউ  মধুমেহ রোগে ভোগেন। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করানো দরকার। অনেক মানুষ গরিব, তা করে উঠতে পারেন না। তাঁদের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করেছি।” উজ্জ্বলবাবুর ওই কাজে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন দিনহাটা থেকে  কোচবিহারের বহু মানুষ। সোমবার দিনহাটার শহিদ কর্নারে ওই ক্লিনিকের উদ্বোধনে ছিলেন পূর্ত দফতরের পরিষদীয় সচিব রবীন্দ্রনাথ  ঘোষ। কোচবিহারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভাশিস সাহাও উপস্থিত ছিলেন। উজ্জ্বলবাবু সাত বছর ধরে দিনহাটার বাসিন্দা। আগে ওকরাবাড়ি প্রাথমিক চিকিত্‌সা কেন্দ্রে কাজ করেছেন। গ্রামীণ হাসপাতালে কাজ করার সময় থেকেই উজ্জ্বলবাবুর সঙ্গে গ্রামের মানুষের সখ্যতা গড়ে ওঠে। পরে মহকুমা শহরে এলেও সেই টান তিন ভুলে যাননি। গ্রামের মানুষ এখনও প্রতিদিন ভিড় করেন তাঁর কাছে।  কিন্তু কেবল রোগী দেখেই খুশি নন এই ডাক্তার। স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারেন সে জন্য তিনি কলম ধরেছেন। ‘বারো মাসে তেরো  রোগ’, ‘গর্ভাবস্থায় বিপদ-আপদ’, ‘ওষুধের সাইড-এফেক্ট’-সহ ছ’টি বই লিখেছেন তিনি। কলম-ক্যামেরার নেশাও রয়েছে। পাঁচটি গল্পের বই, একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্যের উপরে চারটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছেন তিনি। সেখানে অভিনেতা হিসেবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এরপর কী, দেখার জন্য অপেক্ষা করছে দিনহাটা।