পুরভোটের আগে মৌখিক পরীক্ষা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, এমন কারণ দেখিয়ে দাঁইহাট পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল পুরসভা সমূহের উপ-অধিকর্তা দফতর। শুক্রবার দাঁইহাট পুরসভায় এসে মৌখিক পরীক্ষা হচ্ছে না জানার পরে পরীক্ষার্থী বিক্ষোভ দেখান। পুরসভার সামনে পুরনো কাটোয়া-কালনা রোড বেশ কিছুক্ষণ অবরোধও করেন। পুলিশ পরিস্থতি সামাল দেয়। এই ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে কংগ্রেস-তৃণমূলে।

পুরসভা সূত্রে জানা যায়, একটি করণিক ও ৮টি চতুর্থ শ্রেণির পদের জন্য ২০১৪ সালের ৭ অগস্ট লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল। ৮০০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। মাসখানেক আগে ফল বেরোয়। ৬৪ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডেকে চিঠি পাঠানো হয়। এ দিন পরীক্ষার্থীরা পুরসভায় এসে জানতে পারেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় মৌখিক পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশে দিয়েছে পুরসভাসমূহের উপ-অধিকর্তা দফতর। পরবর্তী পরীক্ষার তারিখ জানানোর জন্য বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এর পরে হয়তো অজান্তেই মৌখিক পরীক্ষা হয়ে যাবে এবং পরিচিতদের নিয়োগ করবে পুরসভা।

দাঁইহাটের পুরপ্রধান কংগ্রেসের সন্তোষ দাস বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলে উপ-অধিকর্তা দফতর আমাদের চিঠি পাঠায়। তাতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে কাটোয়ার মহকুমাশাসক আশঙ্কা প্রকাশ করে চিঠি পাঠানোয় আপাতত মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। আমরা বুঝছি না, আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা কেন করা হল?” মহকুমাশাসক মৃদুল হালদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ মার্চ মহকুমাশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের কাউন্সিলর সুদীপ্ত রায় ও স্বাধীনা নন্দী অভিযোগ করেন, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন না দিয়ে এবং সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভা পরীক্ষা নিয়েছে। সুদীপ্তবাবুর অভিযোগ, “এই পুরসভার কাউন্সিলর হলেও নিয়োগের ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলাম। বিষয়টি আমাদের গোচরে আসার পরেই অনিয়মের প্রশ্ন তুলে মহকুমাশাসককে চিঠি দিয়েছি।”

কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, ৮০০ জনের বেশি লিখিত পরীক্ষা দিয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন ৬৪ জন। বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিলিপি অধিকর্তার কাছে জমা দেওয়া আছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য, দাঁইহাটের রাধানাথ ভট্টাচার্য বলেন, “সমস্ত নিয়ম ঠিক রয়েছে দেখেই তো উপ-অধিকর্তার দফতর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার তারিখ দিয়েছিল। আসলে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক চক্রান্ত করল তৃণমূল। যার জেরে হেনস্থার শিকার হলেন পরীক্ষর্থীরা।”