• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ওয়াটার করিডর জটেই

বৈঠকের পরে ডিভিসি-র ছাইপুকুরের কাজ চালু

Advertisement

ফের শুরু হল ডিভিসির রঘুনাথপুর তাপবিদুত্‌ প্রকল্পের ছাইপুকুরের কাজ। টানা ন’দিন বন্ধ থাকার পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার থেকে এই কাজ শুরু হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় রঘুনাথপুর থানায় জমিহারা কমিটি, ডিভিসি ও ছাইপুকুরের কাজের ঠিকা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসেন রঘুনাথপুর মহকুমা প্রশাসনের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অজয় সেনগুপ্ত ও রঘুনাথপুরের সিআই সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই সমাধান সূত্র বেরিয়েছে। ঠিকা সংস্থাটির কর্মকর্তা বাপ্পাদিত্য চৌধুরী বলেন, “এ দিন নির্বিঘ্নেই মাটি কাটা সহ অন্যান্য কাজ হয়েছে।” তাঁর দাবি, ন’দিন কাজ বন্ধ থাকায় তাঁদের সংস্থার প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। তবে চারদিন ধরে বন্ধ থাকা ওয়াটার করিডরের কাজ শুরু হওয়া নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াটার করিডর নিয়েও জমিহারাদের সাথে দ্রুত আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র খোঁজা হবে।

রঘুনাথপুরে ডিভিসির তাপ বিদ্যুত্‌কেন্দ্রের ছাইপুকুরের কাজ বারবারই ব্যাহত হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা তথা জমিহারাদের বিরোধিতায়। গত দু’বছরে মোট ১৩ বার কাজ বন্ধ হয়েছে এই ছাইপুকুরের। ফলে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়েছে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকা সংস্থাটি। স্বাভাবিক ভাবে সমস্যায় পড়েছে ডিভিসিও। গত ৬ জানুয়ারি থেকে কর্মসংস্থানের দাবিতে রঘুনাথপুর ২ ব্লকের পাবডা গ্রামের কাছে দু’টি ছাইপুকুরেরই কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল পাবড়া গ্রামের জমিহারা কমিটি। তাদের অভিযোগ ছিল, আগে পাবড়ার ১৫৫ জন জমিহারা ছাইপুকুর তৈরির কাজে মাসে ২৬ দিন কাজ পেলেও বর্তমানে কাজের দিন কমিয়ে মাসে সাত দিনে নামিয়ে দিয়েছে ঠিকাদার সংস্থা। আগের মতোই মাসে ২৬ দিন কাজের দাবিতে তাঁরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

ছাইপুকুরের সমস্যার মাঝেই কর্মসংস্থানের দাবিতে ওয়াটার করিডরের (জলের পাইপ লাইন) কাজও বন্ধ করে দিয়েছেন নিতুড়িয়া ব্লকের রায়বাঁধ ও গুনিয়াড়া পঞ্চায়েত এলাকার জমিহারারা। মঙ্গলবার ডিভিসির মুখ্য বাস্তুকার হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়-সহ পদস্থ কর্তারা জেলাশাসকের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে যান। তারপরেই বুধবার রঘুনাথপুর থানায় সকলকে নিয়ে আলোচনায় বসে পুলিশ ও প্রশাসন। বস্তুত কিছুটা নরমে গরমেই ছাইপুকুরের কাজ শুরু করিয়েছে প্রশাসন।

আলোচনায় যেমন একদিকে প্রশাসন জমিহারাদের কাজের দিন বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে, তেমনই কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও জমিহারাদের স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অজয় সেনগুপ্ত বলেন, “দু’টি ছাইপুকুরের মধ্যে একটিতে কাজ প্রায় শেষের মুখে। অন্যটির অর্ধেক কাজও হয়ে গিয়েছে। ফলে আগে যেমন জমিহারাদের মাসে বেশিরভাগ দিনই কাজ দেওয়া সম্ভব হতো, এখন তা বাস্তব কারণেই সম্ভব হচ্ছে না। তা স্বত্বেও আমরা ঠিকাদার সংস্থাকে বলেছি জমিহারাদের আরও কিছু বেশি দিন কাজ দিতে হবে। তবে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা যে প্রশাসন বরদাস্ত করবে না, সেটাও জানানো হয়েছে জমিহারাদের।” জমিহারা কমিটির নেতা স্বদেশ মিশ্র বলেন, “প্রশাসন বৈঠকে আমাদের দাবি নিয়ে কিছু আশ্বাস দেওয়ার পরেই আমরা আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করলাম।”

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন