• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রঘুনাথপুরে পঞ্চায়েতে তালা তৃণমূলের

5
নতুনডিতে বিডিও এবং সভাপতিকে ঘিরে বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র

Advertisement

গোষ্ঠী কাজিয়ায় দীর্ণ রঘুনাথপুর ১ ব্লকে তৃণমূল নেতৃত্বকে বিড়ম্বনায় ফেলে একের পর এক ঘটনা চলছেই। এ বার দলের এক পঞ্চায়েত প্রধানকে অপসারণের দাবিতে পঞ্চায়েত অফিসেই তালা ঝুলিয়ে দিলেন তৃণমূল কর্মীরা। তাতে সামিল হলেন পঞ্চায়েতে তৃণমূলেই উপপ্রধান-সহ পাঁচ সদস্য। ঘটনাটি নতুনডি পঞ্চায়েতের। বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর তিনটে পর্যন্ত ওই পঞ্চায়েত তালা বন্ধ ছিল। পরে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণ মাহাতো ও বিডিও সুনীতিকুমার গুছাইত গেলে তাঁরাও বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে অবশ্য তাঁদের আশ্বাসে তালা খোলা হয়।

নতুনডি পঞ্চায়েতের প্রধান পূণির্র্মা মুদির বিরুদ্ধে ইন্দিরা আবাস যোজনা-সহ আরও কিছু বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ লিখিত আকারে প্রশাসনের কাছে আগেই জানিয়েছেন উপপ্রধান শম্ভু গড়াই-সহ পাঁচ তৃণমূল সদস্য। তাঁদের অভিযোগ ছিল, উপযুক্ত লোকেদের বদলে ইন্দিরা আবাস যোজনায় তুলনামূলক ভাবে অবস্থাপন্ন লোকেদের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে। এমনকী পঞ্চায়েত থেকে তৈরি করে দেওয়া উপভোক্তার তালিকাও নাকি মানা হচ্ছে না। তাঁরা প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে ওই প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। পরে কিছু উপভোক্তাকে নিয়ে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরাও রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসকের কাছে একই অভিযোগ জানিয়ে আসেন। এরপরেই নতুনডির তৃণমূল প্রধানকে শো-কজ করেন বিডিও। প্রধান তার জবাবও দিয়েছেন। কিন্তু এরই মধ্যে এ বার প্রধানের অপসারণ চেয়ে পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে নিচুতলার তৃণমূল কর্মীরা।

বুধবার সকালে তৃণমূলের শতাধিক কর্মী-সমর্থক দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে জমায়েত করেন। পঞ্চায়েত কর্মীদের তাঁরা অফিস খালি করে দিতে বলে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ওহিদ আনসারি, সর্বানন্দ দিগার, সঞ্জয় মণ্ডলের অভিযোগ, ইন্দিরা আবাস নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে পঞ্চায়েতে। গরিবদের বঞ্চিত করে অবস্থাপন্নদের ঘর করতে টাকা দেওয়া হচ্ছে! পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা স্বজনপোষণ করছেন। পঞ্চায়েতের অন্যান্য কাজেও দুর্নীতি হচ্ছে। তাঁদের দাবি, “প্রশাসনের আধিকারিকরা আগে জানিয়েছিলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কার্যকরী ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি। তাই আমরা প্রধানের অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।” তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তাঁর ক্ষোভ, “আমরা পাঁচ সদস্য আগেই বেনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ভাবে পঞ্চায়েত চলতে পারে না। দলের নিচুতলার কর্মীদের মতো আমরাও মনে করি স্বচ্ছ ভাবে পঞ্চায়েত চালাতে হলে প্রধানের অপসারণ দরকার।”

এ দিন দুপুরে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে নিয়ে নতুনডি যান বিডিও। তাঁদের ঘিরেও কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলে। শেষ পর্যন্ত বিডিও দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে বিডিও ও সভাপতি বিক্ষুদ্ধ পঞ্চায়েতের সদস্যদের নিয়ে আলোচনাও করেন। বিডিও বলেন, “নতুনডি পঞ্চায়েতে ইন্দিরা আবাস নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই প্রধানকে শো-কজ করা হয়েছে। তদন্ত বন্ধ হয়নি। তদন্ত চলছে।” তবে প্রধানের অপসারণের দাবি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি বিডিও। এ দিকে প্রধান পূণির্র্মা মুদি বলেছেন, “ব্লক অফিসে একাধিক বৈঠক থাকায় এ দিন পঞ্চায়েতে যাইনি। ফলে সেখানে কী হয়েছে বলতে পারব না।” এ দিনও তিনি দাবি করেন, “তবে নিয়ম মেনেই ইন্দিরা আবাস যোজনায় প্রাপকদের অর্থ দেওয়া হয়েছে। বিডিওকে শো-কজের উত্তরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দিয়েছি।”

তবে এলাকার রাজনীতি নিয়ে ওয়াকিবহালরা জানাচ্ছেন, নতুনডির প্রধান ব্লকের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা প্রদীপ মাজির অনুগামী। এ দিন যারা পঞ্চায়েতে তালা দিয়েছেন তাঁরা প্রদীপবাবুর বিরোধী গোষ্ঠী হিসাবেই পরিচিত। তাই প্রদীপবাবুর কটাক্ষ, “দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন তুলে আমাকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে। তার পরেও কিন্তু আমাদের প্রধানের বিরুদ্ধেই পঞ্চায়েতে তালা দিচ্ছে তৃণমূলের কর্মী ও কিছু সদস্য। তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যিনি ব্লকের দায়িত্ব রয়েছেন, তিনি শৃঙ্খলা রক্ষায় কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?” প্রদীপবাবুর অভিযোগের তির ব্লকের দায়িত্বে থাকা বিধায়ক পূণর্র্চন্দ্র বাউরির দিকেই। তবে তাঁকে ফোনে না পাওয়ায় বক্তব্য জানা যায়নি।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন