জেলায় পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গড়ার কাজ শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার থেকে। তিন দিনে পুরুলিয়া জেলার ১৯টি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন ঘিরে জেলার কয়েকটি জায়গায় যে ভাবে অশান্তি ও গণ্ডগোল হয়েছে, সে কথা মাথায় রেখে পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন নিয়ে আরও সতর্ক জেলা প্রশাসন। জয়পুরের ঘাঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গড়া নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নিহত দু’জনেই তাদের দলের সমর্থক এবং পুলিশের গুলিতেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বিজেপির তোলা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশেও অনেক গুলির চিহ্ন মেলে। অতগুলি তবে কারা চালালো, সেই বিষয়ে নিশ্চুপ পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া। জেলা পুলিশের একটাই বক্তব্য, গোটা ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন ঘিরে ঝামেলা হয়েছে বাঘমুণ্ডির সুইসা-তুন্তুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতেও। গোলমাল হয় রঘুনাথপুরের খাজুরা, চোরপাহাড়ি ও বাবুগ্রাম পঞ্চায়েতেও। ঝামেলার আশঙ্কায় জেলার ৩৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের কাজ স্থগিত করে দেয় জেলা প্রশাসন। সব মিলিয়ে জেলার ১৭০টির মধ্যে ৪০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এখনও বোর্ড গড়ার কাজ আটকে রয়েছে।

গত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতা থেকে এ বার পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন নিয়ে সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক অলকেশপ্রসাদ রায় বলেন, ‘‘৪-৬ সেপ্টেম্বর জেলার ১৯টি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গড়া হবে। প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতিতেই ১৪৪ ধারা জারি করা থাকবে।’’ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গড়ার পরে বাকি পঞ্চায়েতগুলিতে বোর্ড গড়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।