লিঙ্ক নেই অথবা ‘লিঙ্ক ফেলিওর’—  কথাগুলো এখন আর নতুন নয়। জেলার ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরগুলিতে গিয়ে এই সমস্যার মুখোমুখি হননি, এমন মানুষ হাতে গোনা। তাই বলে টানা ৩৫ দিন লিঙ্ক থাকবে না একটি ডাকঘরে! অবাক শুনতে লাগলেও এমন ঘটেছে দুবরাজপুরের হেতমপুর রাজবাটি সাব পোস্ট অফিসে। আর তার জেরেই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে চূড়ান্ত হেনস্থা ও দুর্ভোগের শিকার কয়েক হাজার গ্রাহক।

স্থানীয় ডাকঘর সূত্রে খবর, জুন মাসের ১৪ তারিখ ইন্টারনেটে লিঙ্ক উধাও হওয়ার পরে মাঝে মাত্র ১৪ জুলাই কয়েক ঘণ্টার জন্য লিঙ্ক এসেছিল। তার পরে ফের গায়েব। ফলে, ডাকঘরে সঞ্চয় করে রাখা টাকা প্রয়োজনে তুলবেন, বা ‘মান্থলি ইনকাম স্কিম’-এ সুদের টাকা তুলবেন তার কোনও উপায় নেই গ্রাহকদের। উপায় নেই ম্যাচিওর করে যাওয়া ফিক্স ডিপোজিট বা কেভিপি, এনএসসি ভাঙানোরও।

চাষের কাজ, মেয়ের বিয়ে, শ্রাদ্ধ, ঘর ছাওয়ানো বা  চিকিৎসার খরচ যে প্রয়োজনেই টাকা তোলার প্রয়োজন পড়ুক, ডাকঘর গেলে ‘না’ শুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এবং তাঁদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে হেতমপুর রাজবাটি সাব পোস্ট অফিসের কর্মী আধিকারিকদের। ডাকবিভাগ অবশ্য দুষছে সরকারি টেলি পরিষেবা সংস্থা বিএসএনএলকে। কিন্তু কোন পথে সমাধান, সে ব্যাপারে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

ডাকবিভাগ সূত্রের খবর, বহুবছর আগের সাব ডাকঘর এটি। গ্রাহক সংখ্যা অনেক। শুধু সারাজীবনের সঞ্চয় এই ডাকঘরে এমআইএস করে রেখেছেন এমন সংখ্যা প্রায় ১৪০০। এ ছাড়া স্বল্প সঞ্চয়, ফিক্স ডিপোজিট স্কিম মিলিয়ে আরও কয়েকশো গ্রাহক রয়েছেন। এতেই সীমাবদ্ধ নয় ডাকঘরটির এক্তিয়ার। কারণ সাব পোস্ট অফিস হওয়ায় এই ডাকঘরের অন্তর্গত আরও ১৪টি শাখা পোস্ট অফিস রয়েছে। প্রতিটি শাখা পোস্ট অফিসের কয়েক হাজার গ্রাহকও আদতে এই ডাকঘরের উপরে পরোক্ষ ভাবে নির্ভরশীল। সাবপোস্ট অফিসের পরিষেবা ব্যহত হওয়ায় ভুগতে হচ্ছে সবকটি ডাক ঘরকেই। পাহাড় প্রমাণ কাজ জমে গিয়েছে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেতমপুর ডাকঘরের এক কর্মী বলছেন, ম্যানুয়েল হলে এত অসুবিধা হত না। কিন্তু কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেম। যেখানে ইন্টারনেট না থাকলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ক্ষেত্রে এক পা এগোনও সম্ভব নয়। সত্যিই গ্রাহকরা চূড়ান্ত অসুবিধায় পড়েছেন। অসুবিধা সবচেয়ে বেশি গ্রামে থাকা শাখা ডাকঘরগুলির গ্রহকদের। পরিষেবা বলতে এখন শুধু চিঠিপত্র আদানপ্রদানের কাজটুকুই হচ্ছে।

তবে মধ্যপন্থা বের করার চেষ্টা করছে ওই ডাকঘর। যেহেতু সিবিএস চালু রয়েছে তাই সই অ্যাটাচ করে দুবরাজপুরের পোস্ট অফিসে পাঠানো হচ্ছে কিছু গ্রাহককে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তাতে আর কতজন সুবিধা পাবে, বা  দুবরাজপুরে যাবে। বিএসএনএল খারাপ হলে অন্য নেটওয়ার্কের কথা ভাবুক ডাকবিভাগ। এভাবে গ্রাহকদের সমস্যায় ফেলে কী লাভ। শুনেছি, যে বাড়িতে ভাড়া রয়েছে ডাকঘরটি, সেই বাড়ির বাড়িওয়ালার সঙ্গেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ঠিক কী কারণে সমস্যা। জেলা পোস্টাল সুপারিনটেনডেন্ট কাশীনাথ ঘোষ বলছেন, ‘‘এই বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে সিফি (এসআইএফওয়াই)। তবে বিএসএনএলের পরিষেবা নিয়ে গোটা জেলার বিভিন্ন পোস্ট অফিসে সমস্যা রয়েছে। হেতমপুরে ওরা কিছুতেই সেটা স্বাভাবিক করতে পারছে না। বিষয়টি সার্কেল (কলকাতা) অফিসে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে স্পিড বাড়ানোর আবেদন করে বা অন্য নেটওয়ার্কে গিয়ে অথবা প্রয়োজনে ডাকঘরের স্থান বদলেও যত দ্রুত সম্ভব গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।’’

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বিএসএনএলের বীরভূম জেলা টেলিকম ম্যানেজার পিভি অঞ্জেনিয়েন বলছেন, ‘‘আমার নজরে নেই বিষয়টি, তবে দেখছি।’’