পঞ্চায়েত ভোটের আগে সংগঠন গোছাতে পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসের স্লোগানকেই রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। শুধু তাই-ই নয়, পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোর নেতৃত্বে কংগ্রেস রাজ্যে পঞ্চায়েতরাজ সম্মেলন করবে বলে অধীর জানিয়ে দিলেন। রবিবার পুরুলিয়ায় নেপালবাবুর নিজের জেলায় দাঁড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এই মন্তব্য করেন।

আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস ‘এক গাঁও, এক রাত’ বা ‘এক গ্রাম, এক রাত’ স্লোগান নিয়ে ময়দানে নামছে। রবিবার পুরুলিয়ায় জেলা কংগ্রেসের পঞ্চায়েতরাজ সম্মেলনের মঞ্চে সে কথা ঘোষণা করা হয়। ঠিক হয়েছে, জেলা কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা জেলার বিভিন্ন গ্রামে রাত কাটিয়ে সেখানকার সমস্যা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হবেন। বাসিন্দাদের কাছে কংগ্রেসের বার্তা এবং শাসকদলের দুর্নীতির কথা তুলে ধরবেন। এ ভাবেই সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েছে দল। সম্মেলনে এসে সেই পদ্ধতিই সারা রাজ্যের জন্য গ্রহণ করার কথা জানালেন অধীরবাবুও।

এ দিন তিনি বলেন, ‘‘পুরুলিয়া থেকেই প্রদেশ কংগ্রেসের পঞ্চায়েতরাজ সম্মেলন শুরু হল। জেলা কংগ্রেস ‘এক গাঁও, এক রাত’ এই স্লোগান সামনে রেখে সম্মেলন করছে। আমরা এই স্লোগানের সঙ্গে যোগ করতে চাই ‘আমজনতা কি শুনো বাত’। রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও কংগ্রেস কর্মীদের এই কর্মসূচিতে সামিল হতে বলা হবে।’’

নেপালবাবু বলেন, ‘‘যে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মীরা তৃণমূলের দুর্নীতি ও স্বজন পোষন দেখে বিরক্ত, যাঁরা প্রতিবাদ করতে চান, তাঁদের কাছে গিয়ে বর্তমানে কী ভাবে সরকার চলছে, সে কথা জানাতে হবে। প্রতিবাদ সংগঠিত করার কথা বলতে হবে। তার জন্য একটি করে রাত তাঁদের গ্রামে গিয়ে কথা বলতে হবে। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি ও কেন্দ্রের সাম্প্রদায়িক বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁদের টানতে হবে। তাই ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।’’

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেসের অস্তিত্ব এখন কমে এসেছে। কিন্তু পুরুলিয়ায় আগে যেমন বামফ্রন্টের সঙ্গে লড়াই করেছে কংগ্রেস, এখন তৃণমূলের সঙ্গেও ভোটের ময়দানে কিছু কিছু এলাকায় টক্কর দিচ্ছে দল। সেই দলের জেলার কাণ্ডারী নেপালবাবুকেই কলকাতায় পঞ্চায়েতরাজ সম্মেলনের দায়িত্ব দিয়েছে দল। এ দিন সে কথা জানান অধীরবাবুই। অধীরবাবু বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতে কংগ্রেস এ রাজ্যে কী ভাবে লড়বে, তা ওই সম্মেলনে ঠিক হবে। নেপালবাবুর অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হবে। তাই তাঁকে দল সম্মেলনের দায়িত্ব দিয়েছে।’’

তবে কংগ্রেসের অনেকে যে দলবদল করছে তাও তিনি মেনে নিয়েছেন। এ দিন ঝালদা ২ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের বীরেন কর্মকার ও আরও কিছু কর্মীর কংগ্রেসে যোগদানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি স্বীকার করেন, ‘‘কংগ্রেসের রক্তক্ষরণ যেমন হচ্ছে, এটাও সত্যি উল্টোটাও হচ্ছে।’’ নেপালবাবু বিভিন্ন ব্লক সভাপতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘সরকারের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিটি পঞ্চায়েতে আন্দোলন করতে  হবে।’’

শহরে কিছু দিন আগে মুকুল রায়ের হোর্ডং পড়ার পরেই তা খুলে নেওয়া হয়। ওই হোর্ডিংয়ে নাম থাকা দু’জনকে একটি প্রতারণার মামলায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতারও করে। সে প্রসঙ্গে অধীরবাবু বলেন, ‘‘এ রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রদর্শনী চলছে। ওই ঘটনাতেই পরিষ্কার, মুকুল রায়কে ওরা ভয় পাচ্ছে।’’ সভায় ছিলেন মালদহের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি আলবিরুনি জুলকারনাইন প্রমুখ।