রবিবারের পরে সোমবার ভোরে আবার। জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে ঢুকল হাতি। এ বারে ঝালদা রেঞ্জের পুস্তি গ্রামে। ভাঙল বেশ কিছু ঘর। তছনছ করল ফসল। 

রবিবার ভোরে ঝালদা রেঞ্জ এলাকার খামার বিটের নিমডি গ্রামে ঢুকেছিল একজোড়া দাঁতাল। সোমবার একটি দাঁতাল হানা দেয় পুস্তিতে। গ্রামবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, সামনের জঙ্গলে যে দু’টি হাতি ঢুকেছে সেই খবর তাঁরা বন দফতরের থেকে পেয়ে গিয়েছিলেন। আশঙ্কা সত্যি করে শেষ পর্যন্ত হামলা চালিয়েছে তাদের একটি। স্থানীয় ও বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন গ্রামে ঢুকেই হাতিটি প্রথমে মহেশপ্রসাদ কুইরি এবং  কুইলা কুমারের মাটির ঘর ভেঙে একপ্রকার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। সেই সময় ঘরে কেউ ছিলেন না। মহেশবাবু বলেন, ‘‘ঘরে থাকলে  বোধহয় মেরেই ফেলত। আমরা আগে ভাগেই সবাই অন্য একটা ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম।’’ আবার হাতি আসে কি না, সেই ভাবনায় সিঁটিয়ে রয়েছে পরিবারটি। দু’টি ঘর ভাঙার পরে দাঁতালটি একটু দূরে দ্রোণাচার্য কুইরির ঘরের কিছুটা অংশ ভেঙে দেয়। এর পরে দুর্গাচরণ কুইরির ঘরের দরজা লাথি দিয়ে ভেঙে ঘরে থাকা ধান নষ্ট করে।

গ্রামবাসীর তাড়া এর পরে শিম, আলু, সর্ষে, কপির প্রায় দেড় হেক্টর জমির ফসল তছনছ করে হেঁসলা পাহাড়ের জঙ্গলে হাতিটি চলে যায় বলে খবর। ঝালদার রেঞ্জ আধিকারিক অমিয়বিকাশ পাল বলেন, ‘‘প্রচুর ক্ষতি করছে ওই দুই দাঁতাল। আমরা ওদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’’ তিনি জানান, এই ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন বন দফতরের কর্মীরা।