ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চালু হয়ে গেল এসি ওয়ার্ড। রবিবার থেকেই এই পরিষেবা মিলছে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার অধীন মুরারই ২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

মুরারই ২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিএমওএইচ শান্তনু ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘একসঙ্গে বহু রোগীর চাপের জন্য ওয়ার্ডে গরমে খুব অসুবিধা হয়। অথচ এখনই পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য নতুন করে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয়। সেই জন্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা এবং স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরুষ বিভাগে ১৫ শয্যার জন্য এবং মহিলা বিভাগে ১৫ শয্যার জন্য পৃথক পৃথক ভাবে ৩টি করে মোট ৬টি এসি বসানো হয়েছে।’’

হাসপাতাল সূত্রে খবর, একই সঙ্গে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ বার থেকে বিনামূল্যে এক্স রে, রক্তের রুটিন পরীক্ষাও করতে পারবেন রোগীরা। আর এত সব পরিষেবা চালু করার দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নিকাশি নালা সংস্কার, নতুন করে রং করা থেকে বাগান এবং ফোয়ারা তৈরি করে সৌন্দর্যায়নও করা হয়েছে। মুরারই ২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিএমওএইচ শান্তনু ভট্টাচার্য জানান, বর্তমানে ৩০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন রোগী ভর্তির সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ জন। বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ জন রোগী দেখা হয়। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ জন রোগীর চিকিৎসা করা হয়। এত রোগী গরমে কষ্ট পান। তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন এখন।

রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ব্রজেশ্বর মজুমদার বলেন, ‘‘এই ধরণের পরিষেবা রাজ্যের মধ্যে কোথাও চালু আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে বীরভূম জেলার মধ্যে প্রথম একটা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই পরিষেবা রোগীদের জন্য করা হয়েছে।’’

রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ছাড়া মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, মুরারই বিধানসভার বিধায়ক আব্দুর রহমান, নলহাটি বিধানসভার বিধায়ক মৈনউদ্দিন শামস, মুরারই ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জাবির আলি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন। প্রত্যেকেই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে এই ধরনের পরিষেবা চালু করার জন্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রশংসা করেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরারই ২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীন চারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই চিকিৎসক নেই। ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও চিকিৎসকের অভাব আছে। অভাব আছে রোগী ভর্তির সংখ্যা অনুযায়ী নার্স, ফার্মাসিস্ট এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মীর।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ব্রজেশ্বর মজুমদার বলেন, ‘‘নতুন কয়েক জন চিকিৎসককে স্বাস্থ্য দফতর নিয়োগ করেছিল কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউ এখনও কাজে যোগদান করেনি। বাকি কর্মীদের অভাবের ব্যাপারে স্বাস্থ্যভবনে জানান আছে।’’

শান্তনুবাবু বলেন, ‘‘নতুন ভবনের নির্মাণের জন্য ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।’’