মনোনয়নের শেষলগ্নেও অস্ত্রের ঝন্ঝনানি দেখল বোলপুর। জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য বলছেন, ‘‘ওঁরা সব গ্রামের মানুষ। গ্রামে তো অস্ত্রে শান দেওয়ার কোনও মেশিন নেই। তাই বোলপুরে অস্ত্র শান দিতে নিয়ে এসেছিল।’’ বীরভূমের ৪২টি জেলা পরিষদের আসনের মধ্যে ৪১টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের মুখে শাসকদল। ভোট হচ্ছে না ১৯টি ব্লকের ১৪টিতে। ফলে শাসকদলে এখন উৎসবের মেজাজ। নাচে-গানে যোগ দেন আদিবাসীরা। তা দেখে অনুব্রত বলেন, ‘‘এটা আসলে আদিবাসী মেয়েদের উন্নয়নের নাচ।’’

কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা করা না গেলেও শাসকদল কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বোলপুরে অস্ত্রের মিছিল নিয়ে জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলছেন, ‘‘এই অস্ত্র দিয়েই তো গণতন্ত্রের হত্যা করছে শাসকদল।’’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টা নাগাদ টাঙ্গি, তরোয়াল হাতে প্রতিটি মোটরবাইকে ২-৩ জন করে সওয়ারি নিয়ে প্রায় ৫০-৬০টি মোটরবাইক মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের দিকে আসতে থাকে। তারপর মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের ঠিক সামনে এসেই তাদের মিছিল শেষ হয়।

বিরোধীদের ঠেকাতেই জমায়েত, এ কথা মানতে নারাজ শাসকদল। জেলা তৃণমূলের একটি সূত্রের বক্তব্য, যারা আট দিনেও কোনও প্রার্থী দিতে পারল না। তারা এক দিনেই সব আসনে প্রার্থী দিয়ে দেবে, এটা ভাবার প্রশ্নই ওঠে না। ফলে বিরোধীদের আটকানোরও কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কিছু দিন আগেই মনোনয়ন নিয়ে গোলমালে নলহাটিতে আহত হয়েছিলেন সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র ডোম। তিনি বলছেন, ‘‘রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় পঞ্চায়েত নির্বাচন বিরোধী-শূন্য করার চেষ্টায় শাসকদল আপাত ভাবে সফল। তার পরেও এই অস্ত্র-মিছিল শুধু বিরোধীদের আটকাতে নয়, সাধারণ মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করারও একটি পদ্ধতি।’’ বিজেপির সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলছেন, ‘‘এই অস্ত্র দিয়েই তো গণতন্ত্রের হত্যা করছে শাসকদল।’’

সকলের-মাঝে: বোলপুর মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অনুব্রত মণ্ডল। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী