• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রাস্তায় ছাপ দেওয়া ব্যালট

Ballot
পড়ে থাকা ব্যালট। শনিবার পুঞ্চায়। নিজস্ব চিত্র

গণনাকেন্দ্রের কাছে ছাপ দেওয়া ব্যালট উদ্ধার হল পুরুলিয়ার পুঞ্চায়। শনিবার সকালের ঘটনা।

পুরুলিয়া জেলা পরিষদের ২৫ নম্বর আসনটি পুঞ্চায়। ওই আসনের সিপিএম প্রার্থী বিপত্তারণ শেখরবাবু বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্যালটগুলি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। তাঁরা গিয়ে আটকান। পরে পুলিশ এসে সেগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সিপিএমের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, ‘‘পুঞ্চার আসনটিতে কারচুপি হয়েছে। রবিবার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক ডেকে আমরা নির্বাচন কমিশনে এই ব্যাপারে অভিযোগ জানাব। জেলা পরিষদের ওই আসনে অবাধ এবং মুক্ত পরিবেশে পুনর্নির্বাচন চাইছি।’’ এ দিন বিকেলে পুঞ্চা থানার সামনে গণনায় কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখান সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।

তবে জেলাশাসক অলকেশপ্রসাদ রায় বলেছেন, ‘‘কিছু ছাপ দেওয়া আর কিছু অব্যবহৃত ব্যালট ঘরের বাইরে পাওয়া গিয়েছে, এটা সত্যি। তবে তদন্ত করে দেখা গিয়েছে, হিসেবের বাইরের কিছু তার মধ্যে ছিল না। অস্বাভাবিক বা বেআইনি কিছু হয়নি।’’ তাঁর দাবি, ছাপ মারা যে ব্যালট পাওয়া গিয়েছে, সেগুলিতে ভোটকর্মীদের ভোট নেওয়া হয়েছিল। সেই ভোট গণনাতে ধরাও হয়েছে।

অন্য দিকে, বিডিও (পুঞ্চা) অজয় সেনগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, এ দিন কী হয়েছে জানতে ব্লক অফিসের দুই কর্মীকে ওই এলাকায় পাঠানো হলে তাঁদের হেনস্থা করা হয়। হেনস্থাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোট গণনা হয়েছিল পুঞ্চার লৌলাড়া রাধাচরণ একাডেমিতে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ গণনাকেন্দ্র চত্বরে, ছাদে, পুকুরপাড়ে এবং আবর্জনার স্তুপে ছাপ মারা ব্যালট ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্যান্ডেল খোলার জন্যে কয়েকজন শ্রমিক স্কুলে গিয়েছিলেন। তাঁরা প্রথম ব্যালটগুলি দেখতে পান। স্কুলের কাছে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়েও কয়েকজন ব্যালট দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। পুঞ্চার ব্লক কংগ্রেস সভাপতি বারিদবরণ মাহাতো জানান, খবর পেয়ে কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তাঁরা।

দুপুরে জেলা পরিষদের সিপিএম প্রার্থী, পুঞ্চার বাসিন্দা বিপত্তারণ শেখরবাবু ব্যালটে কারচুপির অভিযোগ এনে পুঞ্চা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘‘খবর পেয়ে আমরা এসে দেখি, এ দিক ওদিক ছড়িয়ে থাকা ব্যালটগুলি কুড়িয়ে ব্লক অফিসের এক কর্মী আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। কানে মোবাইল। তাঁকে জাপটে ধরে আটকাই।’’ কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ পৌঁছে ব্যালটগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বিপত্তারণের দাবি, পড়ে থাকা অধিকাংশ ব্যালটই জেলা পরিষদের ছিল। বেশির ভাগেই ছাপ দেওয়া ছিল সিপিএম প্রার্থীর নামের পাশে। তিনি বলেন, ‘‘খবর নিয়ে জেনেছি, রাতে স্ট্রং রুম খুলে ব্যালট বাক্স বদল করা হয়েছিল। বস্তা ভর্তি ব্যালট সরানোর সময়ে কিছু এ দিক ও দিক ছ়ড়িয়ে পড়েতে পারে। আমরা পুনর্নির্বাচন চাই।’’

জেলা পরিষদের পুঞ্চার ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন নীলোৎপল সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘সোমবার ভোট পর্ব মেটার পরে স্ট্রং রুম সিল করার সময়ে আমাদের ডাকা হয়নি। বৃহস্পতিবার গণনার দিনে কয়েকটি ব্যলট বাক্সের আলগা সিল দেখে আমাদের সন্দেহের কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমরা দলীয় ভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাচ্ছি।’’  

তবে স্ট্রং রুমে ঢুকে বাক্স বদলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিডিও (পুঞ্চা)। তিনি বলেন, ‘‘সোমবার ভোটদান পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সামনে স্ট্রং রুম সিল করা হয়েছিল। শনিবার গণনাকেন্দ্রের সামনে কী হয়েছে জানার জন্যে সকালে ব্লক অফিসের দুই কর্মীকে পাঠিয়েছিলাম। ওঁরা পড়ে থাকা ব্যালট নষ্ট করেননি। তবু কয়েক জন লোক ওঁদের হেনস্থা করে।’’ ছাপ মারা ব্যালট ছড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সম্ভবত ওইগুলি ইডি ব্যালট। কেউ ভোট দিয়ে খামে সাদা কাগজ ভরে জমা দিয়ে থাকতে পারেন।’’ সিপিএম ও কংগ্রেস অবশ্য দাবি করছে, উদ্ধার হওয়া ব্যালটের পিছনে নম্বর রয়েছে। রয়েছে প্রিসাইডিং অফিসারের সইও। তার নিরিখে তদন্ত করে দেখার দাবি তুলেছে দুই দল।

জেলা পরিষদের ওই আসনটিতে সিপিএমের বিপত্তারণকে ১০,৮৪২ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। সুজয় বলেন, ‘‘এটা সিপিএম আর কংগ্রেসের চক্রান্ত হতে পারে। হেরে গিয়ে হতাশা থেকে এমনটা করতে পারে ওরা।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন