তৃণমূল কর্মীর পানশালায় জুয়া খেলার অভিযোগে ধরা পড়লেন বিজেপি নেতা-সহ দশ জন।

সোমবার রাতে আদ্রা থানার পুলিশ জয়চণ্ডী রেল স্টেশনের অদূরে ওই পানশালা থেকে গ্রেফতার করা হয় রঘুনাথপুর শহরের বিজেপি সভাপতি তথা আইনজীবী তপন মাজিকে। পুলিশের দাবি, জুয়া খেলার সময়ে হাতেনাতে ধরা হয়েছে তপনবাবু-সহ দশ জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে নগদ দুই লক্ষ আটাশ হাজার টাকা ও কয়েক প্যাকেট তাস। তবে জুয়ার আসর বসানোর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত পানশালার মালিক তৃণমূল কর্মী বিট্টু সিংহকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তিনি পালিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। তবে এই ঘটনায় তপনবাবুর পাশেই দাঁড়িয়েছেন দল। বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে আমাদের রঘুনাথপুর শহরের সভাপতিকে।’’ অন্যদিকে বিট্টু সিংহের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

ঘটনা হল, পুজোর মরসুম শুরু হতেই রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকার আদ্রা, রঘুনাথপুর, নিতুড়িয়া এলাকায় বড়সড় মাপের জুয়ার আসর শুরু হয়। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই জুয়া খেলা চলে কালীপুজোর পর পর্যন্ত। আগেও বেশ কয়েকবার ওই তিন থানা এলাকার পুলিশ অভিযান চালিয়ে জুয়োর আসর থেকে বহু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। কিন্তু, ছেদ পড়েনি জুয়ার আসরে।

পুলিশের দাবি, জয়চণ্ডী পাহাড় স্টেশনের অদূরে ওই পানশালার এক তলার ঘরে রমরমিয়ে জুয়া খেলা চলছে বলে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছয়। বাহিনী নিয়ে সোমবার রাত নটা-দশটা নাগাদ অভিযানে যান আদ্রা থানার ওসি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পানশালা থেকেই হাতেনাতে ধরা হয়েছে দশ জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, রঘুনাথপুর শহরের বাসিন্দা তপনবাবু-সহ রঘুনাথপুরের আরও কয়েকজন, সাঁতুড়ি ও আদ্রা থানার বাসিন্দাও ছিলেন। ধৃতদের মঙ্গলবার রঘুনাথপুর আদালতে তোলা হয়। তপনবাবুর জামিন মঞ্জুর হয়। বাকিদের জেলহাজত হয়েছে।

তবে পানশালায় জুয়া খেলার ঘটনায় বিজেপির শহর সভাপতির গ্রেফতারির ঘটনায় স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। তপনবাবু আবার পেশায় আইনজীবী। ফলে ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়ায় রঘুনাথপুর আদালতের আইনজীবীদের মধ্যেও। শহরের বিজেপির শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় স্বভাবতই বিজেপির বিরুদ্ধে কটাক্ষ শুরু করেছে শাসকদলের নেতা-কর্মীরা।

রঘুনাথপুরের তৃণমূলের পুরপ্রধান ভবেশ চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘পেশায় আইনজীবী বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতার জুয়া খেলতে গিয়ে ধরা পড়ার ঘটনাতেই স্পষ্ট ওই দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা আদতে কি।” তবে এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করে তপনবাবুর পাশেই দাঁড়িয়েছে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতির পাল্টা অভিযোগ, ‘‘পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের নির্দেশে পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে। তপনবাবুও সেই ধরনের চক্রান্তের শিকার।” তবে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি তপনবাবুর। আদ্রা থানায় তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

অন্যদিকে জুয়ার আসর বসানোর ঘটনায় পুলিশ তৃণমূল কর্মী বিট্টু সিংহের নামেও মামলা রুজু করায় কিছুটা অস্বস্তিতে শাসকদল। আদ্রার বেনিয়াসোল এলাকার বাসিন্দা বিট্টু শহরের তৃণমূলের নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। আগে তিনি আদ্রা শহরের যুব তৃণমূলের সভাপতিও ছিলেন। ফলে পানশালায় জুয়ার আসর বসানোর ঘটনায় সেই দলীয় কর্মীর নাম উঠে আসায় দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে শাসকদলকে। তবে বিট্টুর সঙ্গে দলের এখন কোনও সম্পর্ক নেই বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে তৃণমূল। যুব তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি প্রণব দেওঘরিয়ার দাবি, এখন আদ্রায় যুব তৃণমূলের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কোনও পদেই নেই বিট্টু। অতীতেও তিনি যুব সংগঠনের কোনও পদে ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, ‘‘বিট্টুর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে এই ঘটনায় আমাদের দলের কোনও দায়িত্ব নেই। পুলিশ নিজের কাজ করেছে।”