বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চার সহ সভাপতি ধ্রুব সাহাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার রাতে সিউড়ি থেকে নলহাটি থানার বাণীওড় গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে রামপুরহাট থানার ভোল্লা ক্যানাল মোড় এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। রবিবার ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়ে রামপুরহাট এসিজেএম আদালতে পাঠানো হয়। ভারপ্রাপ্ত বিচারক অমিত চক্রবর্তী আট দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন। 

কেন গ্রেফতার? পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ বলেন, ‘‘ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় মামলা আছে। শনিবার ময়ূরেশ্বর থানার তিনটি মামলায় ধ্রুব সাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে।’’ সরকারি আইনজীবী সুরজিৎ সিংহ জানান, চলতি বছরের ২৩ জুন রাতে ময়ূরেশ্বর থানার গোচেপাড়া এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় চার তৃণমূল কর্মী জখম হন। তৃণমূল কর্মী আলাউদ্দিন শেখের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্থানীয় বিজেপি কর্মী সূর্যদেব ভল্লা এবং অনন্তমোহন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ধ্রুব সাহার নাম উঠে আসে বলে পুলিশের দাবি। ওই মামলায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত, খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ ধারা সহ বিস্ফোরক আইনের ৩/৪ ধারায় মামলা রুজু করে। 

এই সমস্ত জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা ছাড়াও বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চার সহ সভাপতির বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ময়ূরেশ্বর থানা এলাকায় বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরোধী পোস্টারিং-এ মদত দেওয়া ও ময়ূরেশ্বর থানার বেজা গ্রামের একটি ঘটনায় উস্কানিমূলক আচরণে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে। ধ্রুববাবুর অবশ্য দাবি, ‘‘পুলিশ মিথ্যা মামলায় অভিযোগ দায়ের করেছে। আমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে না।’’ বিজেপি-র লিগ্যাল সেলের আইনজীবী অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, যে সমস্ত মামলায় পুলিশ ধ্রুব সাহাকে গ্রেফতার করেছে, তার মধ্যে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় ধ্রুবর নাম ছিল না। ওই মামলায় ধৃতদের এক জন জামিনও পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় ধ্রুববাবুর নাম জড়িয়ে গ্রেফতার করেছে।’’ এ দিকে, দলের নেতাকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে রবিবার রামপুরহাট আদালতে বিজেপির জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্ব জড়ো হন। সেখানে 

বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শুভাশিস চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘‘তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি সরে গিয়েছে। রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে পুলিশের সাহায্য নিয়ে বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। ধ্রুব সাহা পুলিশের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল বলেই গ্রেফতার করা হল।’’ পুলিশ সেই অভিযোগ মানতে চায়নি। পুলিশের দাবি, আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।