বিপ্রটিকুরির পরে দাঁড়কা।

ওই পঞ্চায়েত এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমা মারার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজনৈতিক আক্রোশে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই কাণ্ড ঘটিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এ সব তৃণমূলের রাজনৈতিক চক্রান্ত।

কয়েক দিন আগে বিপ্রটিকুরি পঞ্চায়েতের আমনাহার গ্রামে তৃণমূল বুথ সভাপতি জিতেন্দ্রনাথ দাসের বাড়ির চালে বোমা মারার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। সস্ত্রীক জীবনবাবু আহত হন। ৮ জনের বিরুদ্ধ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাঁদের মধ্যে আদিবাসী এক সেনাকর্মীকে পুলিশ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করে বলে অভিযোগ।

সেই ঘটনার রেশ মিলিয়ে যেতে না যেতেই বৃহস্পতিবার রাত ১২টা নাগাদ তৃণমূলের দাঁড়কা অঞ্চল কমিটির সভাপতি কাজল রায়ের দাঁড়কা গ্রামের বাড়িতে ৭টি বোমা পরে বলে অভিযোগ। কাজলবাবু বলেন, ‘‘রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আমার বাড়ির দরজা আর বৈঠকখানা ঘরের জানালায় বোমা পড়ে। পাশের ঘরে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছি। রাজনৈতিক আক্রোশে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই বোমা মেরেছে।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার জন্যেই এলাকায় দুষ্কৃতীদের দাপট বেড়েছে।

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ওই পঞ্চায়েত এলাকায় কাজল রায়ের নেতৃত্বে আমাদের সংগঠন খুব শক্তিশালী। সে জন্য বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওঁর বাড়িতে বোমা মেরেছে।’’

অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। তৃণমূলের হুমকি অগ্রাহ্য করে বৃহস্পতিবার ওই এলাকা থেকে বেশ কিছু লোক আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই আক্রোশেই ওঁদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসাতে বোমা মারার গল্প ফেঁদেছে।’’

নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ জানায়, ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

এ দিকে, দলীয় কর্মীর বাড়িতে বোমা মারার অভিযোগে লাভপুরের আমনাহার গ্রামে প্রতিবাদ সভা ও শান্তি মিছিল করল তৃণমূল। কয়েক দিন আগে ওই গ্রামে বুথ সভাপতি জিতেন্দ্রনাথ দাসের বাড়িতে বোমা মারার অভিযোগ ওঠে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার তারই প্রতিবাদে ওই গ্রামে শান্তিমিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। ছিলেন দলের জেলা সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিংহ,  ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী। অভিজিৎবাবু বলেন, ‘‘বিজেপি সব জায়গায় অশান্তি ছড়াতে চাইছে। তারই প্রতিবাদে এই সভা।’’