ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এমন কাউকে দলে নেওয়া যাবে না— এমনই কথা জানালেন জেলা বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ভাল ভাবে খোঁজ নিয়ে তবেই কাউকে সদস্যপদ দিতে হবে।’’ 

৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস পালনের মধ্যে দিয়ে জেলায় বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্যামাপদবাবু জানিয়েছেন, জেলায় দলের ৪০টি মণ্ডল কমিটি রয়েছে। ওই সব কমিটির কার্যকর্তারা সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচিতে শামিল হবেন। তিনি জানান, দলের জেলা সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণের আগেই পূর্বতন জেলা সভাপতি নতুন সদস্যপদ গ্রহণে জেলা কমিটির দু’জন নেতাকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের এক জন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল, অন্য জন সহ-সভাপতি সুধীররঞ্জন দাস গোস্বামী।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’টি পদ্ধতিতে সদস্যপদ গ্রহণ অভিযান কর্মসূচি চলছে। প্রথমত মোবাইল ফোনে মিসড্‌ কলের মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত প্রদেশ নেতৃত্বের পাঠানো ফর্ম পূরণ করে। প্রদেশ নেতৃত্বে রদবদলের জন্যে মণ্ডল কমিটিতে ফর্ম পাঠাতে সময় লাগছে। ৯-১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফর্ম জেলার প্রতিটি মণ্ডল কমিটিতে পৌঁছে যাবে।

বীরভূমে এই মহূর্তে দলের কত জন সদস্য রয়েছে তা অবশ্য নবনিযুক্ত জেলা সভাপতি জানাতে পারেননি। শ্যামাপদবাবু বলেন, ‘‘আমি দীর্ঘদিন অন্য জেলায় ছিলাম। এখন বীরভূমে বিজেপির সদস্যসংখ্যা কত তা খোঁজ না নিয়ে বলতে পারব না।’’

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে দেখা গিয়েছে, জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দুবরাজপুর, সিউড়ি, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট এবং ময়ূরেশ্বরে বিজেপি তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে। বাকি ৬টি বিধানসভা কেন্দ্র নানুর, লাভপুর, বোলপুর, হাঁসন, নলহাটি, মুরারইয়ে এগিয়ে শাসকদলই। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তার মধ্যে মুরারই, নলহাটি, হাঁসন, বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি অনেক পিছিয়ে। সাংগঠনিক দিক থেকেও মুরারই বিধানসভায় বিজেপির সংগঠন দুর্বল। 

শ্যামাপদবাবু বলেন, ‘‘মোবাইল ফোনে মিসড্‌ কল দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণের ক্ষেত্রে যাচাই করার সুযোগ থাকে না। সেই কারণে ওই প্রক্রিয়ায় সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

লাভপুরের বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের মনে ক্ষোভ ছড়ায়। সেই প্রসঙ্গে শ্যামাপদবাবুর মন্তব্য, ‘‘অন্য দলে থাকাকালীন যদি কারও নামে খুন, তোলাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তাঁদের যাতে দলে না নেওয়া হয় সে ব্যপারে সংশ্লিষ্ট মণ্ডল কমিটিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হবে।’’