গ্রামের এক প্রান্তে পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে মিলল দু’ব্যাগ তাজা বোমা। মাড়গ্রাম থানার বসোয়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিত্যক্ত বাড়িটি ঘিরে ফেলে। দুপুরে সিআইডি-বম্ব স্কোয়াড বোমাগুলি সরিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বসোয়া গ্রামের বাবুলবনি এলাকায় পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে এক সময় গ্রামের রেশমশিল্পীদের ‘শিল্প ভবন’ ছিল। পরে সেখানে গ্রামের জুনিয়র বেসিক প্রাইমারি স্কুল চালু করা হয়। বছর পনেরো আগেও ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হতো। স্কুলটি গ্রামের ভিতরে স্থানান্তরিত হওয়ার পরে ওই বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ভরে যায় আগাছায়। এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, জঙ্গলে ঢাকা ওই বাড়িতে কে বা কারা, কখন বোমা রেখে গিয়েছে তা টের পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার রাতে রামপুরহাট থানার দখলবাটি গ্রামের ঘিয়া গড়ার পাড় এলাকার বাসিন্দা মাইজুল শেখের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ বোমা তৈরির মালমশলা উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মাইজুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালেও ওই বাড়ির রান্নাঘরে প্লাষ্টিকের ড্রামে রাখা কয়েকটি তাজা উদ্ধার করা হয়। দুপুরে বম্ব স্কোয়াড সেখান থেকে বোমাগুলি নিয়ে যায়। ধৃতের স্ত্রী আরিনা বিবির দাবি, ‘‘আমার স্বামী নির্দোষ। ওঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।’’

প্রাক্তন বুথ সভাপতি শেখ বদরুদ্দোজার বাড়ি থেকেও ১৪টি বোমা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। বৃহস্পতিবার রাতে বোমাগুলি উদ্ধার হয়। পুলিশ জানায়, বম্ব স্কোয়াড বোমাগুলিকে নিষ্ক্রিয় করবে। বৃহস্পতিবার সাতসকালে বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছিল দুবরাজপুরের সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান হাইতুন্নেসা খাতুনদের ‘গোয়াল ঘর’। ঘটনাটি ঘটে রেঙ্গুনি গ্রামে। ওই ঘটনায় টিনের চাল উড়ে গিয়ে জখম হন গ্রামেরই এক বাসিন্দা। এলাকাবাসী ও পুলিশ অবশ্য প্রধান নন, ঘটনার জন্য দায়ী করছিলেন ওঁর বাবা প্রাক্তন বুথ সভাপতি শেখ বদরুদ্দোজাকেই। বাড়িতে বোমা মজুত রাখার অভিযোগে পুলিশের গ্রেফতার করে তাঁকে। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে বদরুদ্দোজা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।