• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মমতার সভায় চেক বিলি কৃষক-বন্ধুর

Poster
সাজ: রামপুরহাটে। নিজস্ব চিত্র

‘কৃষক-বন্ধু’ প্রকল্পের ঘোষণার পরেই ২ থেকে ৪ জানুয়ারি বীরভূম সফরে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বোলপুরের জনসভায় তুলে ধরেছিলেন কৃষক-বন্ধু প্রকল্প থেকে কী সুবিধা পেতে চলেছেন বীরভূম তথা রাজ্যের কৃষকেরা। এ বার সেই বীরভূম থেকেই ওই প্রকল্পের পাঁচ উপভোক্তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেক বিলি করতে চলেছেন বলে খবর।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি ফের বীরভূমে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩০ তারিখ রামপুরহাটে প্রশাসনিক জনসভা ও পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান আছে। জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, ‘‘এমনিতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রকল্পটি চালু হচ্ছে। তবে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ঠিক হয়েছে ওই সভা থেকেই কৃষক-বন্ধু প্রকল্পের পাঁচ উপভোক্তার হাতে চেক তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। আমরা সেই মতো প্রস্তুতি নিচ্ছি।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকার ঘোষিত ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে রবি ও খরিফ মরসুমে দু’দফায় একর প্রতি পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। অতিরিক্ত জমি থাকলেও অনুদানের অঙ্ক বাড়বে না। অন্য দিকে, এক একরের কম জমির জন্য আনুপাতিক হারে অনুদান নির্ধারিত হবে। ন্যূনতম অনুদানের পরিমাণ হবে এক হাজার টাকা। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি কোনও কৃষকের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারকে সরকার এককালীন দু’লক্ষ টাকাও অনুদান হিসেবে দেবে।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে জেলার সমস্ত কৃষককে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই আবেদন করতে হবে। জেলা উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) সমীর ঘোষ বলছেন, ‘‘আবেদন পত্র আসছে। সেগুলি বিতরণ হচ্ছে। কৃষক বন্ধু পোর্টালে নথি আপলোড হচ্ছে এবং চেক রেডি হচ্ছে। চারটি প্রক্রিয়া এক সঙ্গে চলছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার আবেদন পত্র পৌঁছেছে। ব্লকে ব্লকে আবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক দিনেই সব আবেদন পত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ধাপে ধাপে আবেদন পত্র বিলি হচ্ছে। ব্লক কৃষি অফিস, পঞ্চায়েত অফিসে এমনকি মৌজায় শিবির করে কৃষকদের কাছে আবেদন পত্র গ্রহণ করা হবে। আবেদনের তথ্য খতিয়ে দেখে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদনকারীর নাম নথিভুক্ত করা হবে। সব প্রক্রিয়া সমাপ্ত হলে, চিপ যুক্ত ডিজিটাল কার্ডও দেওয়া হবে। নথিভুক্ত হয়ে গেলে সরকারি নির্দেশ মেনে দেওয়া হবে আর্থিক সাহায্য। তবে গোটা ফেব্রুয়ারি মাস অবেদনের জন্য সময় থাকলেও জমি রেকর্ড সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে সকলে প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আরও একটি বিষয় হল, পরিসংখ্যানের থেকেও বেশি কৃষিক পরিবার জেলায় থাকা। কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালের সুমারি অনুযায়ী বীরভূম জেলায় ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৫৬১টি কৃষক পরিবার রয়েছে। কিন্তু, ১০ বছরে পরিবার ভেঙে, জমি বিভক্ত হয়ে সেই সংখ্যাটি বেড়ে কমপক্ষে সাড়ে চার লক্ষ পরিবার হওয়ার কথা।  

প্রশাসনেরই একটি অংশ বলছেন, বলা হয়েছে প্রয়োজনীয় নথি ঠিক থাকলে তবেই চাষি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। বিশেষ করে নিজের নামে জমির পর্চা না থাকলে আবেদনই করতে পারবেন না কৃষক। হতে পারে সরকার কৃষি জমির জন্য মিউটেশন ফি নেবে না। কিন্তু, জমি চাষ করলেও বা ভোগ দখলে থাকলেও কত শতাংশ কৃষকের নিজের নামে পর্চা রয়েছে বা কত দ্রুততায় সেই  নথি সংশোধিত করে জমা দিতে পারবেন সেটাই স্পষ্ট নয়। 

একই আশঙ্কা জেলার চাষিদের একাংশেরও। অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পূর্ণেন্দু মাঝি বলছেন, ‘‘এখনও জমি সংক্রান্ত সংশোধনীর জন্য কৃষকদের আবেদন জমা পড়েনি। দিন কয়েক পরেই সেটা স্পষ্ট হবে। তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলছেন, ‘‘নথিপত্রের সমস্যাজনিত কারণে কেউ প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন সেটা দেখতে জেলা লেভেল কমিটি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দেবে কমিটি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন