• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অক্ষয়ের জেলায় নাবালিকা বিয়ের তোড়জোড়, প্রশ্ন

Akshay Bhagat
অক্ষয় ভগৎ

Advertisement

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচারে সাইকেলে দেশ চষে বেড়াচ্ছেন বাঘমুণ্ডি ব্লকের প্রত্যন্ত বুড়দা গ্রামের যুবক অক্ষয় ভগৎ। কিন্তু, তাঁর বার্তা যে এখনও সর্বস্তরে পৌঁছানো যায়নি, শুক্রবার বাঘমুণ্ডি লাগোয়া ঝালদা থানা এলাকার এক গ্রামে পুলিশের এক নাবালিকার বিয়ে বন্ধের ঘটনায় সামনে চলে এল।

শুক্রবার বিকেল ঝালদা থানার পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, সতেরো বছরের এক নাবালিকার বিয়ে ঠিক হয়েছে বুধবার। পাত্র হরিয়ানার বাসিন্দা। সঙ্গে সঙ্গেই ঝালদা থানার সাব-ইন্সপেক্টর রানা ভগতের নেতৃত্বে পুলিশ কর্মীরা ওই গ্রামে রওনা দেন। 

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই কিশোরী তাদের জানিয়েছে, সে বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানে না। মেয়েটির মা আগে মারা গিয়েছে। বাড়িতে রয়েছে সৎমা ও বাবা। তাঁরা প্রথমে পুলিশের কাছে বিয়ের তোড়জোড়ের কথা স্বীকার করতে চাননি। পরে, পুলিশের চাপে তাঁরা সব জানান। গোপনে বিয়ে সারার জন্য তাঁরা কার্ড ছাপাননি। ফোনেই আত্মীয়দের নিমন্ত্রণ করেছেন। তাঁরা জানান, বিয়ের সম্বন্ধ করেছেন মেয়েটির মামা। ঝাড়খণ্ডের সিলি থানার মাধ্যমে ঝালদা পুলিশ যোগাযোগ করে মেয়েটির মামাবাড়ির লোকজনের সঙ্গে। ঝালদায় তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়।

কিশোরী এবং তার বাবাকে গাড়িতে তুলে পুলিশ নিয়ে যায় বিডিও (ঝালদা ১) নির্মিতা সাহার কাছে। মামাবাড়ির লোকজন ঝালদা পৌঁছন। রাত ন’টা নাগাদ বিডিও-র কাছে কিশোরীর বাবা মুচলেকা দেন, আঠারো বছরের আগে তিনি মেয়ের বিয়ে দেবেন না। তারপরে তাঁরা রেহাই পান।

বিডিও বলেন, ‘‘কিশোরীটি নবম শ্রেণির পরে পড়া ছেড়ে দিয়েছিল। পড়া শুরু করতে বলেছি। যদি কোনও প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জানিয়েছি।’’ কিশোরীর বাবা জানান, ১৮ বছরের আগে তিনি মেয়ের বিয়ে দেবেন না। 

নাবালিকা বিয়ের বিরুদ্ধে প্রচারে বার হওয়া অক্ষয় এই ঘটনার কথা শুনে শনিবার বেঙ্গালুরু থেকে ফোনে বলেন, ‘‘খুব মর্মাহত হলাম। আমার মনে হয়, গ্রামে গ্রামে এ ব্যাপারে সচেতনতার আরও প্রয়োজন রয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হতে হবে। না হলে হয়ত কোনও দিনই এই সামাজিক ব্যাধিকে আটকানো যাবে না।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন