ধর্মরাজের পুজোর জন্য বাউল গানের আসর বসেছিল ময়ূরেশ্বর গ্রামে। অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষ হতেই শোনা যায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। ছড়ায় উত্তেজনা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেদের সঙ্গে গোলমাল বাধে তৃণমূলের লোকেদের। বিজেপির এক কর্মী তিরবিদ্ধ হন বলে অভিযোগ। শাসকদলের পাল্টা নালিশ, তাদের এক কর্মীর পানের বরজ পুড়িয়ে দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের লোকজন। দু’পক্ষই অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে চায়নি। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘটে ওই ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের ধর্মরাজতলায় বাউল গানের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষ হতেই বিজেপির সমর্থক দুই কলেজ পড়ুয়া ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন। তা নিয়ে দু’পক্ষে বচসা বাধে। অভিযোগ, ওই দুই তরুণকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা দু’জনকে উদ্ধার করতে গেলে তৃণমূলের লোকেরা তাঁদের দিকে তির ছোড়েন বলে অভিযোগ। সন্তোষ সেন নামে এক বিজেপি কর্মীর পিঠে তির লাগে। তাঁকে প্রথমে সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল পরে সিউড়ি সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বিজেপি সূত্রে খবর, আঘাত গুরুতর হওয়ায় শনিবার দুপুরে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

তৃণমূলের ময়ূরেশ্বর ২ ব্লক কমিটির সদস্য লালু শেখ অবশ্য তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘বিজেপির লোকেরা বাউলগানের অনুষ্ঠান বানচাল করার চেষ্টা করছিলেন। আমাদের লোকেরা প্রতিবাদ করলে ওঁরা তির ছোড়েন। সেই তির লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েই ওদের কর্মীরই গায়ে লেগেছে। ওরা আমাদের এক কর্মীর পানের বরজও পুড়িয়ে দিয়েছে।’’

বিজেপির ময়ূরেশ্বর ২ ব্লকের ১ মণ্ডল কমিটির সভাপতি সন্দীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীকে তির মারার অভিযোগ ধামাচাপা দিতে নিজেরাই নিজেদের দলের কর্মীর পানের বরজে আগুন লাগিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে তৃণমূল।’’

পুলিশ জানায়, পানের বরজে আগুন লাগানোর ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লেও, অন্য পক্ষ এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

অন্য দিকে এক মহিলার গায়ে আবীর লাগার ঘটনা ঘিরে শুক্রবার সন্ধেয় উত্তেজনা ছড়ায় লাভপুরের ছোটগোগা গ্রামে। অভিযোগ, পাশের গ্রামের কয়েক জন ওই গ্রামে চড়াও হন। অভিযোগ, হামলায় পাঁচ মহিলা সহ ১০ জন আহত হন৷ তাঁদের মধ্যে দু’জনকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ছোটগোগা গ্রামে আবীর খেলা হচ্ছিল। ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তা পাশের গ্রামের এক মহিলার গায়ে পড়ে। তার জেরেই উত্তজনা ছড়ায়। পুলিশ এবং শাসকদলের নেতারা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। পুলিশ জানায়, এ নিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।