• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অভিযানের পরে দাবি আধিকারিকদের

হিমঘরে বাড়ছে আলুর দর

potato price
বাঁকুড়ার চকবাজারে এক পাইকারি আলু বিক্রেতার দোকানে। নিজস্ব চিত্র
খুচরো ব্যবসায়ী বা আড়তদারদের জন্য নয়, আলুর দর চড়ছে হিমঘরেই। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বাজার পরিদর্শনের পরে এমনই পর্যবেক্ষণ জেলা কৃষি বিপণন দফতরের কর্তাদের। পাশাপাশি, আলুর কম ফলন ও করোনা-পরিস্থিতির জন্য হিমঘরে কম আলু মজুত হওয়ার জন্য এই পরিস্থিতি বলে মত তাঁদের। 
যদিও হিমঘর মালিকদের দাবি, আড়তদারদের জন্যই খুচরো বাজারে চড়ছে আলুর দর। এ দিকে, কাগজে-কলমে যে দরে হিমঘর থেকে আলু বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে তার বেশি দর নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ আড়তদারদের একাংশের। বিভিন্ন পক্ষের টানাপড়েনের ফলে, কবে কমবে আলুর দর, সে দিকে তাকিয়ে আমজনতা।
বাঁকুড়ার বাজারে মাস দেড়েক ধরে আলুর দর চড়ছে। সপ্তাহখানেক আগে জ্যোতি আলুর দর কেজি প্রতি ৩০ টাকা ছাড়ায়। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বাজারে তা বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ২৮-৩০ টাকা দরে। রাজ্যের নির্দেশে এ দিনই জেলা কৃষিবিপণন দফতরের কর্তারা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার বাজারে আলুর দর যাচাইয়ে অভিযানে নামেন। ছিলেন জেলা কৃষি বিপণন দফতরের আধিকারিক মহম্মদ আকবর আলি, সহকারী কৃষি বিপণন আধিকারিক ভাস্কর বসু, ইনস্পেক্টর (লিগ্যাল মেট্রোলজি) ভাস্কর বসু ও হৃষিকেশ ভুঁই প্রমুখ। এ দিন তাঁরা বাঁকুড়ার চকবাজার, লালবাজারের খুচরো বাজারে গিয়ে আলু বিক্রেতাদের সঙ্গে কথাও বলেন। 
খুচরো বিক্রেতারা প্রশাসনিক কর্তাদের জানান, কেজি প্রতি সাড়ে ২৫-২৬ টাকা দরে তাঁরা আড়ত থেকে আলু কিনে বাজারে ২৮-৩০ টাকা কেজি দরে বেচছেন। বিক্রেতাদের অনেকের অভিযোগ, “পঞ্চাশ কেজির বস্তা বলা হলেও বহু ক্ষেত্রে কম আলু থাকছে। তার উপরে পচা আলু, ছোট আলু ক্রেতারা নিতে চান না। কেজি প্রতি দু’তিন টাকা বেশি দর না পেলে আলু বিক্রি করে কিছু থাকবে না।” দফতরের কর্তাদের তাঁরা বলেন, “কম দামে মাল দিন, আমরাও দর কমিয়ে বিক্রি করব।” 
এর পরে প্রশাসনিক কর্তারা যান বাঁকুড়ার নতুনগঞ্জে, পাইকারি আলু বিক্রেতাদের কাছে। সেখানে পাইকারি বিক্রেতারা তাঁদের জানান, এ দিন হিমঘর থেকে আলু বেরিয়েছে কেজি প্রতি ২৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা দরে। যদিও বাঁকুড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী শ্যামল সেনের অভিযোগ, “কিছু হিমঘরে এ দিন আলু কেজি প্রতি ২৬ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। পাকা রসিদ দিতে বলা হলে তা দেওয়া হয়নি।” পরে ‘হোলসেল মার্কেট’ থেকে বেরিয়ে প্রশাসনিক কর্তারা বাঁকুড়ার কেরানিবাঁধ লাগোয়া এলাকা ও বেলিয়াতোড়ের একটি হিমঘরে যান। সেখানে গিয়ে আলুর দর খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
পরিদর্শন শেষে জেলা কৃষি বিপণন আধিকারিক মহম্মদ আকবর আলি বলেন, “খুচরো বাজার বা আড়তের দর ঠিকই রয়েছে। আলুর দর বাড়ানো হচ্ছে হিমঘরে। কিছু হিমঘরে বেশি দরে হোলসেল ব্যবসায়ীদের আলু দেওয়া হচ্ছে ও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আলুর দর বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, গত বছরে সামগ্রিক ভাবে জেলায় আলুর ফলন কম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য হিমঘরে আলু মজুতও কম হয়েছে। ভিন্ রাজ্যে আলুর চাহিদাও রয়েছে। তাই জেলার বাজারে আলু কম বিক্রি করা হচ্ছে। এতে দর বাড়ছে।” বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং তার পরে রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ হবে, জানান তিনি।
এ দিকে হিমঘরে আলুর দর বাড়ছে, এমন দাবি মানতে নারাজ হিমঘর মালিকেরা। জেলা হিমঘর মালিক সমিতির সভাপতি দিলীপ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “হিমঘরে বাড়তি দর নেওয়া হচ্ছে, এ কথা ঠিক নয়। হিমঘরের তুলনায় খোলা বাজারে আলুর দর কখনওই কেজিতে পাঁচ টাকা বেশি হওয়ার কথা নয়। তার মানে মাঝে কোথাও দর বাড়ানো হচ্ছে। হোলসেলারদের কাছেই দর বাড়ছে।” 
রসিদ না দিয়ে বেশি দরে আলু বিক্রির অভিযোগ নিয়ে দিলীপবাবু বলেন, “এমন যদি হয়, তা হলে কোথায় হচ্ছে আমাদের জানানো হোক। আমরা ব্যবস্থা নেব।” অন্য দিকে, পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির আলুর বস্তাপিছু তাঁদের মেরেকেটে ১০-১৫ টাকা লাভ হয়। হিমঘরে দর নিয়ন্ত্রিত হলেই আলুর দর কমবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন