• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভিড় হটাতে পুলিশের লাঠি

lathicharge
পুরুলিয়ার জেলা স্কুল মোড়ে, মঙ্গলবার। ছবি: সুজিত মাহাতো

‘লকডাউন’-এ থাকা শহরের ইতিউতি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মানুষকে জটলা করতে দেখে কোথাও সক্রিয় হল পুলিশ। উঠল লাঠি চালানোর অভিযোগ। কোথাও আবার পুলিশকে তেমন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। 

লকডাউনে থাকা পুরুলিয়া ও ঝালদা শহরে অবশ্য পুলিশ সোমবার বিকেলেই ঘোরাঘুরি করা লোকেদের সতর্ক করে দিয়েছিল। তাতেও মঙ্গলবার পরিস্থিতির বিশেষ বদল না হওয়ায় জমায়েত হটাতে শেষ পর্যন্ত লাঠি চালাতে বাধ্য হল পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন পুরুলিয়ার স্টেশন রোড, ঝালদার নতুন থানা এলাকায় জমায়েত সরাতে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ। তবে, লাঠি চালানোর ঘটনা মানতে চায়নি পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘লকডাউনের নিয়ম অনুযায়ী এক সঙ্গে সাত জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। বহু ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম মানেনি বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বুঝিয়ে জমায়েত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

ঝালদায় সোমবার দুপুরে ‘লকডাউন’-এর ঘোষণা করেছিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। বিকেলে ঝালদার এসডিও সুশান্ত ভক্ত ও এসডিপিও সুমন্ত কবিরাজ-সহ পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা বেরিয়ে মাইকে প্রচার করে লকডাউনের ঘোষণা করেন। বাসিন্দাদের সময় দেওয়ার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় সেই অর্থে কড়া পদক্ষেপ নেয়নি ঝালদা মহকুমা প্রশাসন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমায়েত ও জটলা তৈরি হওয়ায় রাস্তায় নামে পুলিশ। সূত্রের খবর, বাসস্ট্যান্ড, বীরসা মোড়, বাঁধাঘাট এলাকায় পুলিশকর্মীরা নরমে গরমে বুঝিয়ে জমায়েত ভাঙেন। তবে নতুন থানা এলাকায় লাঠি চালাতে দেখা গিয়েছে পুলিশ কর্মীদের।

এ দিন বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল বড়জোড়ার মালিয়াড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছলে চম্পট দেন শ্রমিকেরা। পরে আবার ফিরে আসেন। ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতে নির্মাণ কাজ চালানো যাবে না পুলিশ জানানোর পরে বন্ধ হয় কাজ। সোমবার রাতে বড়জোড়ার কয়েকটি জায়গায় চায়ের দোকান খোলা হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বন্ধ করে। বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা, কালীতলা এলাকাতেও লোকজনের ভিড় কমাতে কড়া হয় পুলিশ।

বাঁকুড়ার মাচানতলা মোড় ও ডিআইবি মোড়ে ব্যারিকেড করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিল পুলিশ। বহু মানুষকেই আটকে দেওয়া হয়। তবে এই সক্রিয়তা শহরের অন্যত্র দেখা যায়নি। যা নিয়ে শহরের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন ‘লকডাউন’ কি কেবল মাচানতলাতেই? 

বাঁকুড়া শহরের বাজার এলাকাগুলিতে এ দিন রোজকার মতোই ভিড় ছিল। ভিড় রুখতে পুলিশকে সে ভাবে পদক্ষেপও করতে দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দূরত্ব বজায় রাখার বালাই ছিল না। করোনার সংক্রমণ রোখার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের নির্দেশে জারি হওয়া ‘লকডাউন’-কে সফল করতে শহরের সর্বত্রই কড়া হোক পুলিশ সেই
দাবিও উঠেছে।

অভিযোগ, বরাবাজারে ভিড় সরাতে মৃদু লাঠি চালাতে হয়েছে পুলিশকে। বান্দোয়ানে বেলার দিকে পুলিশ রাস্তায় নামের পরে ভিড় পাতলা হয়েছে। অন্য দিকে, আদ্রায় সোমবার সন্ধ্যা থেকেই অপ্রয়োজনীয় কারণে দোকানগুলিতে ভিড় জমানোয় জমায়েত সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। নিতুড়িয়ায় সোমবার সন্ধ্যার দিকে ভিড় সরাতে লাঠি চালিয়েছিল পুলিশ। এ দিন মানবাজার শহরের একটি পেট্রল পাম্পে যুবকেরা অযথা ভিড় জমাচ্ছেন খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সরিয়ে দেয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন