• নিজস্ব সংবাদদাতা  
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

খাঁ খাঁ তারাপীঠে খোঁজ এখন বিকল্প কাজের

Tarapith
করোনা আতঙ্কে সুনসান তারাপীঠের রাস্তা। নিজস্ব চিত্র

অঘোষিত কার্ফু যেন বীরভূমের তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে তারাপীঠ প্রথম সারিতে। প্রতি বছর পর্যটন বাণিজ্যে লক্ষ্মীলাভ বাড়িয়ে চলেছে এই কালীক্ষেত্র। কিন্তু করোনাভাইরাসের কোপে এখন পর্যটকশূন্য তারাপীঠ। খাঁ-খাঁ করছে হোটেল আর লজগুলো। মন্দিরকে ঘিরে অসংখ্য ব্যবসা। ফুল, প্রসাদ, খাবার দোকান, পরিবহন সব 

কিছু থমকে গিয়েছে এক ধাক্কায়। ক্রমশ পথে-ঘাটে কমছে লোক চলাচল।       

রানিগঞ্জ - মোড়গ্রাম ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে রামপুরহাট শহরে ঢোকার মুখে বগটুই মোড় এলাকা। এই মোড় দিয়েই তারাপীঠগামী অটো, ট্রেকার চলাচল করে। সকালবেলা বগটুই মোড়ের সাম্প্রতিক চিত্র হল তারাপীঠের যাত্রীর অভাবে অটোও কমতে কমতে তিন-চারটিতে এসে ঠেকেছে। অটোচালকদের কথায়, ‘‘মন্দির না হয় দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ। তাই বলে কি সাধারণ যাত্রীদের দেখা মিলবে না?’’ তারাপীঠ ঢোকার মুখে দ্বারকা নদের সেতুর উপর কোনও যানজট নেই, দ্বারকা সেতু থেকে তারাপীঠ তিনমাথা মোড় সুনসান এলাকা। তারাপীঠ মন্দিরের এক সেবায়েত জানালেন  করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। ফলে সব ব্যবসাই মার খাচ্ছে। তারাপীঠ থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত ট্রেকার, অটো চালিয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করে সংসার চালাতেন যে সব চালকেরা, তারাপীঠ মন্দিরে দর্শনার্থী না আসার জন্য তাঁরা বিকল্প কাজ খুঁজছেন এখন। তৃণমূল পরিচালিত অটো ট্রেকার চালক সমিতির সভাপতি বাচ্চু দাস বলেন, ‘‘বড় বিপদে পড়ে গিয়েছি আমরা। খেয়ে পরে বাঁচতে হবে তো।’’

তারাপীঠ লজ মালিক সমিতির সভাপতি সুনীল গিরিও জানান, তারাপীঠে মোট বোটেল ও লজের সংখ্যা প্রায় তিনশো। এর মধ্যে সাত আটটি প্রথম সারির লজ আছে। অনলাইন বুকিং-এর মাধ্যমে ওই সমস্ত লজগুলিতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ বুকিং ছিল। করোনা মোকাবিলায় মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকায় সেই বুকিং বাতিল হয়েছে। নতুন করে বুকিং নিতেও বারণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘‘এক্ষেত্রে লজ ব্যবসায়ীরা দশ লক্ষেরও বেশি টাকার ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হলেন।’’ সাহেব সাহা নামে এক লজ মালিক জানান, মার্চের মাসের শেষের দিকে এই সময় মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়। সেই জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস নিয়ে তারাপীঠে দর্শনার্থীরা বেড়াতে আসেন। ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৪টি বাসের ট্যুর বুকিং ছিল। একদিনের জন্য ওই সমস্ত ট্যুরিস্ট দলের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হত। কিন্তু করোনা আতঙ্কে সেসব বাতিল হয়ে গিয়েছে।’’ হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোতে কর্মীরা বসে আছেন। গল্প করে, টিভি দেখে সময় কাটছে। 

অনেকেই তারাপীঠে যান প্যাকেজ ট্যুরে। শান্তিনিকেতন সহ বোলপুরের কঙ্কালীতলা, বক্রেশ্বর, লাভপুরের ফুল্লরা মা, সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী তলা, নলহাটিতে নলাটেশ্বরী মন্দির ঘোরানো হয় একই সঙ্গে। সেরকম বেশ কিছু বুকিং বাতিল হয়েছে বলে জানান আরেক পর্যটন ব্যবসায়ী চন্দ্রশেখর পাল। তারাপীঠ থেকেও অনেকে এই সময় পুরী যান। তারাপীঠের আরেক পর্যটন ব্যবসায়ী সমীরকুমার পাল বলেন, ‘‘দু’টি বাস নিয়ে পুরী যাওয়ার কথা ছিল। বুকিং বাতিল করে দেওয়া হয়েছে করোনা আতঙ্কে।’’

পর্যটকদের উপর নির্ভর করে তারাপীঠ এলাকায় ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালাতেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তারাপীঠ কবিচন্দ্রপুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শিবসাধন দাস বলেন, ‘‘তারাপীঠে তিনশো জনেরও বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন যাঁদের ব্যবসা চলে মন্দির খোলা থাকলে। তাঁদের পেটে লাথি পড়েছে।’’ তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘তারাপীঠ আর্ন্তজাতিক পর্যটন কেন্দ্র। তারাপীঠকে ঘিরে ছোট, বড়, মাঝারি নানা ধরনের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন। তারাপীঠে ছোটখাটো ব্যবসা করে অনেকেই সংসার চালান। 

অনেক দুঃস্থ ভাণ্ডারার প্রসাদ খেয়েই থাকেন এখানে। তাঁদের সকলেই বিপদে পড়েছেন।’’                    (শেষ)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন