• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শৌচাগার থেকে ঘরের ‘হোম কোয়রান্টিন’-এ

mahadeb singh
ঘুপচি শৌচাগারে চার দিন কাটিয়ে শুক্রবার ঘরে ফিরলেন মহাদেব সিং (বাঁ দিক থেকে)। ছবি: রথীন্দ্রনাথ মাহাতো

বাড়ি বলতে দু’টি ছোট ঘর। তাতে থাকেন পাঁচ জন। তাই হাওড়ার আন্দুল থেকে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে ফেরা শ্রমিক মহাদেব সিং বাড়িতে না উঠে আরও কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কুচিয়া গ্রামের এক প্রান্তে তাঁবুতে ‘হোম কোয়রান্টিন’-এ থাকছিলেন। কিন্তু রবিবার ঝড়ে তাঁবু উড়ে যায়। সঙ্গীরা নিজেদের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করলেও, বিপাকে পড়েন মহাদেব। শেষে বছর তেত্রিশের ওই যুবক ঠাঁই নেন বাড়ির শৌচালয়ে। সেখানে কষ্টে-সৃষ্টে চার দিন কাটানোর পরে, শুক্রবার সকালে সিভিক ভলান্টিয়ারেরা গিয়ে তাঁকে বাড়িতে ফেরালেন। 

বাঁশের লাঠি বানানোর কারখানার কর্মী মহাদেবের কোনও উপসর্গ না থাকলেও, তাঁকে ১৪ দিন ‘হোম কোয়রান্টিন’-এ থাকতে বলেছিল বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তাই বাড়ি থেকে একশো মিটার দূরে, চার ফুট চওড়া ও ছ’ফুট লম্বা শৌচাগারে সোমবার থেকে ছিলেন তিনি। শৌচাগারটি জলের অভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার হয় না। কোনও রকমে ত্রিপলের ছাউনি ও খড়-বাঁশের দরজা খাড়া করা হয়। 

বৃহস্পতিবার রাতে সে খবর শুনে পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার বলেছিলেন, ‘‘যাঁদের ‘হোম কোয়রান্টিন’-এ থাকতে বলা হচ্ছে, তাঁরা ঘরের সমস্যার কথা জানালে, সরকারি ‘কোয়রান্টিন’ সেন্টারে রাখা হবে।’’ ওই যুবকের জন্য সে ব্যবস্থা করতে বিডিওকে জানাবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ দিন বিডিও (বান্দোয়ান) শুভঙ্কর দাস বলেন, ‘‘মহাদেববাবুর বাড়িতে থাকার ইচ্ছা ছিল। তাই তাঁকে বাড়িতে ফেরানো হয়েছে। তাঁর সুবিধা-অসুবিধার উপরে নজর রাখা হচ্ছে।’’ 

এ দিন দেখা গেল, ঘরের এক কোণে রয়েছেন মহাদেব। অন্য প্রান্তে তাঁর স্ত্রী ও ছ’বছরের মেয়ে। মাঝখানে টাঙানো প্লাস্টিক। পাশের ঘরে মহাদেবের বাবা ও দুই বোন। মহাদেব বলেন, ‘‘শৌচাগারে থাকতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু ঘরে ঢুকতে ভরসা হচ্ছিল না। সিভিক ভলান্টিয়ারেরা বলায় ভরসা পেয়ে ঢুকলাম। স্বস্তিও পেয়েছি।’’ তাঁর স্ত্রী তারামণি বলেন, ‘‘মানুষটা ঘরে ফেরায় শান্তি পেলাম।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন