ফের বোমা উদ্ধার হল লাভপুরে। রবিবার রাতে হাতিয়া পঞ্চায়েতের লাঘোষা গ্রাম লাগোয়া ময়ূরাক্ষীর ফেরিঘাটের কাছে একটি শরবনে চারটি ব্যাগে প্রায় ৬০টি তাজা বোমার হদিস মেলে। কয়েক দিন আগেই দাঁড়কা পঞ্চায়েতের দরবারপুর গ্রাম লাগোয়া সেচখালের পাড় থেকে ২৫টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছিল। পরে ওই পঞ্চায়েতের মীরবাঁধ গ্রাম লাগোয়া ময়ূরাক্ষী নদীবাঁধের শরবনেও মিলেছিল বোমা।

অন্য দিকে, মহম্মদবাজার থানার ভাঁড়কাটা পঞ্চায়েতের পলাশবুনিতে বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুত্রে খবর, মেখানে মিলেছে ৮০ কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ৩০টি করে ডিটোনেটর ও জিলাটিন স্টিক।

কয়েক দিন আগে বিস্ফোরণে দাঁড়কা পঞ্চায়েতের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত আবাসন ভেঙে পড়ে। মজুত বোমা বিস্ফোরণেই ওই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বিস্ফোরণের পরে এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়। তার পর থেকেই একের পর এক জায়গায় বোমার হদিস পাচ্ছে পুলিশ।

তৃণমূলের লাভপুর ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী জানান, এলাকা দখলের জন্য বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই বোমা মজুত করেছিল। অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা বোমা-বারুদের রাজনীতি করি না। ওটা তৃণমূলেরই সংস্কৃতি।’’ পুলিশ জানায়, কারা কী কারণে বোমা মজুত রেখেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার সিউড়ি  ডিআরডিসি প্রেক্ষাগৃহে একটি অনুষ্ঠানের পরে সংবাদমাধ্যমকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘‘বিস্ফোরক এখানে হঠাৎ পাওয়া যাচ্ছে তা তো নয়, এত দিন ধরে জমা হয়েছে। এত দিন সরকার কী করছিল? গোটা বাংলার পাশাপাশি সারা দেশ বারুদের স্তূপের উপরে বসে রয়েছে।’’ বিস্ফোরক মজুতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওই অপরাধীদের চিহ্নিত করা দরকার। যাঁরা তাদের মাথায় রয়েছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।’’ এ দিন ডিআরডিসি প্রেক্ষাগৃহে সিপিএমের ওই সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র ডোম, জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী।

দিন পাঁচেক আগে রামপুরহাট থানার রদিপুর এবং বড়জোল গ্রাম সংলগ্ন এলাকা থেকে আড়াইশো বস্তা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সহ ৪২ হাজার ডিটোনেটর উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় রবিবার রাতে রদিপুর গ্রাম থেকে উজ্জ্বল লেট এবং সজল লেট নামে দুই ভাইকে বিস্ফোরক পাচারের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে কিছু পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ডিটোনেটর এবং জিলেটিন স্টিক উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।