• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বোরো, আনাজ চাষ নিয়ে চিন্তা

File Photo
—ফাইল চিত্র
মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি। বুধবার দুপুরের মধ্যেই জলমগ্ন জেলার বিঘার পরে বিঘা চাষ জমি। এই পরিস্থিতিতে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাঁকুড়া জেলা কৃষি দফতরের। বিশেষ করে তিল ও বোরো ধান চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্য দিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘আমপান’-এর জেরে বৃষ্টিতে আনাজ চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে পুরুলিয়ায়।
বাঁকুড়া জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বাঁকুড়ায় বৃষ্টি হয়েছে ১১.৬ মিলিমিটার। সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে বৃষ্টি হয়েছে আরও ১৪ মিলিমিটার। ‘আমপান’-এর প্রভাবে বিকেলের পরে বৃষ্টি আরও বাড়ার কথা। বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা সুশান্ত মহাপাত্র বলেন, “তিল ও বোরো ধানে ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হতে পারে। জেলার বহু জমিতেই জল জমেছে বলে খবর। সার্বিক পরিস্থিতির রিপোর্ট প্রতিটি ব্লক কৃষি দফতর থেকে চাওয়া হয়েছে”।
 
দক্ষিণ বাঁকুড়ার খাতড়া মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ বারে তিল চাষ হয়েছে। খাতড়ার দহলা গ্রামে ১৫ বিঘা জমিতে তিল চাষ করা অজিত দাসের আক্ষেপ, “ঝড়ে গাছ ভেঙে নুয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে জমিতে জমেছে জল। ফসল আদৌ ঘরে তুলতে পারব কি না, নিশ্চিত নই।” খাতড়া মহকুমা সহকারী কৃষি অধিকর্তা গণেশ সিং সর্দারের কথায়, ‘‘মহকুমায় প্রায় সাড়ে তেরো হাজার হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে। আমপানের প্রভাবে এর কিছু ক্ষতি হতে পারে। এখনও বেশ কিছু বোরো ধান মাঠে রয়েছে। তারও  ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। প্রভাব পড়তে পারে আনাজেও।’’
 
গত সপ্তাহের বৃষ্টিতেই বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিষ্ণুপুর মহকুমার পাত্রসায়র ও ইন্দাসে। এ দিনের বৃষ্টিতে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুরের বেলশুলিয়া, মড়ার, বাঁকাদহ, জন্তা, লয়ের, ডিহর গ্রামে প্রচুর পরিমাণে আনাজ চাষ হয়। আনাজ চাষি উত্তম রায়, গিয়াসুদ্দিন মণ্ডলদের আশঙ্কা, “আনাজের মাচা ভেঙেছে। ক্ষতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, কে জানে।’’
 
অন্য দিকে, ‘আমপান’-এর জেরে বৃষ্টিতে খরিফ মরসুমের আমন ধান চাষে সুবিধা হলেও আনাজ চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছে পুরুলিয়া কৃষি দফতর। জেলার কৃষি আধিকারিকদের মতে, প্রাক-বর্ষার বৃষ্টির আগে এই বৃষ্টিতে মাটিতে থাকা উপকারী জীবাণুও বাঁচবে। তাতে আমন ধানের জমি তৈরি করতে বাড়তি সুবিধা পাবেন চাষিরা।
তবে এই অসময়ের বৃষ্টিতে কপালে ভাঁজ পড়েছে জেলার আনাজ চাষিদের। পুরুলিয়ায় গ্রীষ্মকালীন আনাজ চাষ হয় কম-বেশি দশ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষি দফতর সূত্রে খবর, ‘আমপান’-এর জেরে জেলায় ৬০-৭০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তেমন হলে আনাজ চাষে যথেষ্ট ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে বলে জানাচ্ছেন বিভিন্ন ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তারা। পুরুলিয়ার উপকৃষি অধিকর্তা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘টানা ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে, জমিতে জল জমে গ্রীষ্মকালীন আনাজ চাষে ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে। আর ঝড়ে মাচা ভেঙে পড়েও আনাজের ক্ষতি হতে পারে। তবে চাষিরা বোরো ধানের প্রায় পুরোটাই কেটে নেওয়ায় ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে।’’
 
জেলার আনাজ চাষিদের একাংশও জানাচ্ছেন, এখন গরমের দ্বিতীয় দফার আনাজ মাঠে আছে। দিন পনেরো আগেই লাগানো হয়েছে বেগুন, লাউ, কুমড়ো, শসা, পটল, ঝিঙে, বরবটির মতো গরমের নানা আনাজ। বুধবার সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় প্রমাদ গনছেন ঝালদা, বান্দোয়ান, আড়শা, রঘুনাথপুর ১ ব্লকের চাষিদের একাংশ। আড়শার তুম্বাঝালদা গ্রামের চাষি চিত্তরঞ্জন মাহাতো জানান, তিন বিঘা জমিতে টোম্যাটো লাগিয়েছিলেন। সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। বান্দোয়ানের চাষি অরুণ মাজিও বলেন, ‘‘মাচায় পটল চাষ করেছি। ঝড়ে মাচা ভেঙে পড়লে পুরো ফলনটাই নষ্ট হবে!’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন