• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দিনভর চলল ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি

আমপানের আতঙ্কে দুই জেলা ঘরবন্দি

Bankura
ঘূর্ণি: ঝড়ের দাপটে বেসামাল ছাতা। বাঁকুড়ার কেরানিবাঁধে বুধবার। ছবি: অভিজিৎ সিংহ
সকাল থেকে ঝিরঝিরে ছিল। বেলা বাড়তেই হাওয়ার দাপটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ল বৃষ্টি। সব মিলিয়ে বুধবার এক প্রকার ঘরবন্দি রইল পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া। ছাতা মাথায় বা ‘রেনকোট’ গায়ে যাঁরা বেরিয়েছিলেন, বেলা গড়াতেই ঘরে ঢুকে পড়েন তাঁরাও। দুপুরে রাস্তায় কার্যত কোনও লোকজন দেখা যায়নি। সকালে যে সব দোকানপাট খুলেছিল, প্রতিকূল আবহাওয়া আর ক্রেতার অভাবে কিছুক্ষণ পরেই বন্ধ হয়ে যায়। ঝোড়ো হাওয়ায় তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কিছু এলাকা।  শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাতেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির কমবেশি দাপট দেখা গিয়েছে দু’জেলারই নানা প্রান্তে।
 
দুই জেলার প্রশাসনই জানিয়েছে, পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে। পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার বলেন, ‘‘আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী পুরুলিয়াতে আমপানের প্রভাব খুব একটা বেশি পড়বে না বলেই জানা গিয়েছে। তবে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে তৈরি রাখা হয়েছে। সমস্ত বিডিওকে সর্তক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অসীমকুমার বিশ্বাস বলেন, “বুধবার দুপুর পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। ত্রাণ শিবিরও চালু করার প্রয়োজন হয়নি। তবে সমস্ত ব্লক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলেই ত্রাণ শিবির চালু করা হবে।”
 
পুরুলিয়া
 
পুরুলিয়া শহর, রঘুনাথপুর, ঝালদা, মানবাজার, আদ্রার মতো শহরাঞ্চলগুলিতে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করোনার থেকে ‘আমপান’-এর দিকে কিছুটা সরে গিয়েছিল। মঙ্গলবার রাত থেকে জেলার সর্বত্রই ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ বৃষ্টি বাড়তে শুরু করে। পুরুলিয়া ২ ব্লকের জাহাজপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘কল্যাণ কৃষি বিজ্ঞানকেন্দ্র’-এর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে জেলায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বয়েছে। তবে ‘আমপান’ স্থলভূমিতে আছড়ে পড়ার পরে, হাওয়ার বেগ ও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকবে বলে জানায় আবহাওয়া কেন্দ্র।
 
পুরুলিয়া শহরে কিছু দোকানপাট খুললেও ক্রেতা ছিল হাতেগোনা। চাইবাসা রোডের ওষুধের দোকানদার দেবকুমার দাঁ বলেন, ‘‘সকাল থেকেই যে ভাবে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আর দোকান খুলতে পারিনি।” পুরুলিয়ার টোটো চালক ভরত রায়, রামু রায়রা বলেন, ‘‘যাত্রী নেই, তাই টোটো বন্ধ রেখেছি।” শহরের দুই চায়ের দোকানদার বলাই মোদক ও সোমনাথ সেন বলেন, ‘‘সকালের দিকে সামান্য কিছু বিক্রি হয়েছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি বাড়ায় ক্রেতা আসেনি। চায়ের জন্য কেনা দুধ পড়ে রইল।"
পুরুলিয়া পুরসভার তরফে ঝড়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। পুরপ্রধান সামিমদাদ খান, উপপুরপ্রধান বৈদ্যনাথ মণ্ডল সেখানে রাতেও উপস্থিত ছিলেন। ৫০ জনের একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি রাখা হয়েছে বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে।
 
বাঁকুড়া
 
বাঁকুড়া জেলা আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার। দুপুর ৩টেয় তা বেড়ে দাঁড়ায় ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারে। বৃষ্টিও হয়েছে ভাল।
 
ঝড়ের মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি মঙ্গলবারই সারা হয়েছিল। এ দিন সকাল থেকেই বাঁকুড়া শহরের রাস্তায় লোকজন প্রায় ছিল না। বিষ্ণুপুর, জয়পুর, কোতুলপুর ও সোনামুখীর রাস্তাঘাটও দিনভর প্রায় জনশূন্য ছিল। দু’-একটি ওষুধ ও মুদির দোকান খোলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলিও বন্ধ হয়ে যায়। 
 
মহকুমাশাসক (বিষ্ণুপুর) অনুপকুমার দত্ত এ দিন প্রশাসন ও পুলিশকে নিয়ে বৈঠক করেন। পরে তিনি বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি ব্লক প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।’’ বিষ্ণুপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ওয়ার্ডে কাঁচা বাড়ির সংখ্যা বেশি। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এলাকার কমিউনিটি হল, স্কুল, ক্লাবগুলির চাবি নিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করলেই লোকজনকে সে সব জায়গায় সরানো হবে।  
 
পাত্রসায়রের বাসিন্দা গৌতম দত্ত জানান, হাটকৃষ্ণনগর, পাত্রসায়রে কোথাও আনাজ বাজার সে ভাবে বসেনি। কাঁকরডাঙা মোড়ের এক ব্যবসায়ী চন্দ্রদেব কুণ্ডুও জানান, কিছু দোকান খোলা থাকলেও খদ্দেরের দেখা মেলেনি। ইন্দাসের অমলেন্দু পাঁজা বলেন, “ঝড়ের খবর আগাম জেনেই মঙ্গলবার বাজার করে রেখেছিলাম। এ দিন বেরোনোর ঝুঁকি নিইনি।’’
 
ঝোড়ো হওয়া ও বৃষ্টির জন্য খাতড়া মহকুমায় বিভিন্ন জায়গায় এ দিন বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সকালে ইঁদপুরের ক্ষীরপাই গ্রামে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। মুকুটমণিপুর জলাধার লাগোয়া গ্রামগুলিতে গিয়ে মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি। মহকুমাশাসক (খাতড়া) রবি রঞ্জনও বলেন, ‘‘আমপান ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপারে বিভিন্ন ব্লক এলাকার মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ব্লক প্রশাসনকেও সতর্ক থাকতে 
বলা হয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন