• রথীন্দ্রনাথ মাহাতো
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘হোম কোয়রান্টিন’-এর তাঁবু আঁকড়ে দু’ভাই

Bandwan
তখনও অক্ষত তাঁবু। সামনে বসে বিজয় সিং। নিজস্ব চিত্র
ঘূর্ণিঝড় ‘আমপান’ আসছে শুনে দু’ভাইয়ের বুক কেঁপে উঠেছিল। খোলা মাঠের মধ্যে তাঁদের ত্রিপলের তাঁবুর ‘হোম কোয়রান্টিন’ টিকবে তো! বুধবার ভোরে হাওয়ার বেগ বাড়তেই উড়ে যায় তাঁবুর একাংশ। বৃষ্টিতে ভিজে যান তাঁরা। তা রপরে কয়েক ঘণ্টা ধরে দুই ভাইয়ে তীব্র হাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে তাঁবুর খুঁটি ধরে রাখার চেষ্টা চালান। শেষে  তাঁবুও উড়ে যায়। দুপুরে দুই ভাই সঙ্গে থাকা তল্পিতল্পা নিয়ে কিছু দূরের ইটভাটার একটি জীর্ণ ঘরে গিয়ে ওঠেন।
 
পুরুলিয়ার মানবাজার ২ ব্লকের চালকা গ্রামের বাসিন্দা দাদা বিধান সিং ও তাঁর ভাই বিজয় সিং মহারাষ্ট্রের রায়গড়ের রোহা থানা এলাকায় রং মিস্ত্রির কাজ করে গ্রামে ফিরেছেন। তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হলেও, গ্রামবাসীর একাংশের বাধায় তাঁরা বাড়ির কাছে তাঁবুতে মঙ্গলবার থেকে রয়েছেন। কিন্তু দুর্যোগের মধ্যে তাঁবুতে কী ভাবে থাকবেন, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন দুই ভাই।
 
বাড়িতে রয়েছেন তাঁদের মা ও বাবা। বিধান বলেন, ‘‘সামান্য জমি। তাই ভাই কয়েকবছর ধরেই রায়গডে রঙের কাজ করতে যায়। মাস ছয়েক আগে আমিও সেখানে যাই। কিন্তু ‘লকডাউন’-এ আটকে থেকে কষ্টে ছিলাম বলে বাস ভাড়া করে আরও কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে আমরা ফিরে আসি। কিন্তু বারি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষা করে আমাদের ‘হোম কোয়রান্টিন’-এ থাকতে বললে, গ্রামের কিছু মানুষ  বাধা দেন।’’
 
বিজয় জানান, বুধবার ভোর থেকে হঠাৎ করে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। তাঁর কথায়, ‘‘কোথায় যাব ভেবে পাইনি। মাঝেমধ্যে ত্রিপল উড়ে যাচ্ছিল। দুই ভাইয়ে কোনও রকমে ত্রিপল ধরে থাকি। কিন্তু কতক্ষণ হাওয়ার সঙ্গে লড়াই চালানো সম্ভব? বৃষ্টিতে ভিজে একশা হয়ে গিয়েছিলাম। রান্না বসাতে পারিনি। খিদে, ক্লান্তিতে পারছিলাম না। দুপুরের দিকে তাঁবুটা উড়ে চলে গেল। দু’জনে গিয়ে উঠলাম ইটভাটার পোড়ো ঘরে। জানি না, এই ঘরটা না ঝড়ে ভেঙে যায়!’’
 
পরে সেখানেই বাড়ির লোকজন চাল, ডাল দিয়ে যান। দু’জনে তা ফুটিয়ে খান। এই জেলার অনেক পরিযায়ী শ্রমিকই গ্রামে ফিরে ঘরের অভাবে, কোথাও বাসিন্দাদের আপত্তিতে তাঁবু, প্রতীক্ষালয়, শৌচালয় প্রভৃতি জায়গায় ‘হোম কোয়রান্টিন’ করে থাকছেন। 
 
কেন প্রশাসন অন্তত এই দুর্যোগের সময় তাঁদের একটা পাকা ছাউনির নীচে রাখার ব্যবস্থা করছে না, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। রাতে বিডিও (মানবাজার ২) তারাশঙ্কর প্রামাণিক বলেন, “পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সন্ধ্যায় তাঁদের স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন