অযোধ্যা পাহাড়ে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে রাজ্যকে বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ‘‘অযোধ্যা রাজ্যের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল। কিন্তু এখানে এসে দেখছি, উন্নয়ন সেই ভাবে কিছুই হয়নি।’’ বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে খোঁচা দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া, ‘‘ওঁর রাজনৈতিক জীবন সংক্ষিপ্ত। ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন, ২০১১ সালের আগে অযোধ্যা কী ছিল, আর তার পরে অযোধ্যা কী হয়েছে।’’

মঙ্গলবার জয়পুর-সহ জেলার একাধিক জায়গায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপবাবু। সন্ধ্যায় তিনি বাঘমুণ্ডির অযোধ্যা পাহাড়ের একটি বেসরকারি হোটেলে পৌঁছন। সেখানে রাত কাটিয়ে বুধবার সকালে পাহাড় এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পানীয় জল সঙ্কট-সহ বেশ কয়েকটি সমস্যা দিলীপবাবুর সামনে তুলে ধরেন গ্রামবাসী। পাহাড় সংলগ্ন বাগানডি গ্রামের ঠাকুরদাস পরামানিক নামে এক বাসিন্দা দিলীপবাবুর কাছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি নিয়ে বঞ্চনার অভিযোগ করেন। বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেন দিলীপবাবু। 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপবাবুর অভিযোগ, ‘‘অযোধ্যা রাজ্যের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল। কিন্তু এখানে এসে দেখছি, উন্নয়ন সেই ভাবে কিছুই হয়নি। আর বলা হচ্ছে, পাহাড়ে নাকি প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘উন্নয়ন হয়নি বলেই ভ্রমণপিপাসু মানুষকে পুরী কিংবা দিঘাতে গিয়ে ভিড় জমাতে হচ্ছে। পাহাড়কে ভাল করে সাজিয়ে তুললে ভ্রমণপিপাসু মানুষজন যেমন পাহাড়ে আসবেন, তেমনই পাহাড়বাসীর উপার্জনও বাড়বে।’’ পাহাড়ের একটি গার্লস হস্টেল নিয়েও এ দিন ক্ষোভপ্রকাশ করেন দিলীপবাবু। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এত দিন আগে ওই হস্টেল চালু হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু এখনও তো দেখছি শুরুই হয়নি।’’ 

বুধবার সারাদিন পাহাড়েই ছিলেন দিলীপবাবু। বিকেলে তিনি গিয়েছিলেন পাহাড়ের ‘আপার ড্যাম’ এবং ‘লোয়ার ড্যাম’ এলাকায়। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ কাটান তিনি। সঙ্গে চলে জনসংযোগ। ছিলেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জোতির্ময় সিংমাহাতো এবং বিজেপির পুরুলিয়া জেলার সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী-সহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা।