গ্রামের এক মেয়ের কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন চলছিল। প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির কন্যাশ্রীরা। ছদনাতলায় তর্কবিতর্ক। অবশেষে বন্ধ হল বিয়ে। সত্যি বিয়ে অবশ্য হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার কন্যাশ্রীদের নিয়ে ছায়াছবির শুটিং হয়ে গেল মানবাজার ২ ব্লকের বসন্তপুর গ্রামে। পাত্র, পাত্রী, বাবা, মা, আত্মীয়, বাজনদার— সব ভূমিকাতেই ছিল বসন্তপুর আদিবাসী হাইস্কুলের পড়ুয়ারা।

‘‘নেহাতই গল্পকথা নয়, বাস্তবেও এমনটা করে দেখিয়েছে আমাদের কন্যাশ্রীরা’’, বলছিলেন স্কুলের প্রধানশিক্ষক অজয় মাহাতো। তাঁর দাবি, বছর দুয়েক আগে গ্রামেরই একাধিক নাবালিকার বিয়ে রুখে দিয়েছিল স্কুলের ছাত্রীরা। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে স্কুলটিতে চালু হয়েছে ‘চেতনার আলো কন্যাশ্রী ক্লাব’। এখন নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে ১৩০ জন কন্যাশ্রী রয়েছে। তারা নিজেরাই খোঁজ করে স্কুলছুট মেয়েদের স্কুলে ফেরিয়ে আনে। বাল্যবিবাহের কুফল, শিশু-শ্রম বন্ধে প্রচার এবং স্বাস্থ্যবিধির পাঠও দেয়। সঙ্গে থাকেন কিছু শিক্ষক।

স্কুলের সাঁওতালির শিক্ষক শোভারাম টুডু বাল্য বিবাহ রোধ সংক্রান্ত মিনিট পনেরোর একটি নাটিকা লিখেছেন। সেটিই ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে এ বার।

বৃহস্পতিবার দিনভর চলেছে শুটিং। বিডিও (মানবাজার ২) তারাশঙ্কর প্রামাণিক বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ওই স্কুলের কন্যাশ্রী ছাত্রীদের বাল্য বিবাহ রোধ প্রচার বিষয়ক একটি তথ্যচিত্র নির্মিত হবে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন আমাকে এ কথা জানায়। সেই মতো এ দিন প্রতিনিধি দল গ্রামে গিয়ে  শুটিং করেছে।’’

এ দিন বসন্তপুর গ্রামে শুটিং-এর জন্য একটি আদিবাসী বাড়ি বাছাই করা হয়েছিল। বিয়ের গেট, প্যান্ডেল, ছাদনাতলা, বাজনা— কোনও আয়োজন বাদ পড়েনি। আদিবাসী নাচের অনুষ্ঠানও ছিল। স্কুলের পড়ুয়া মৌসুমী বাস্কে, শকুন্তলা হাঁসদা, নিয়তি টুডুরা বলে, ‘‘আমরা কন্যাশ্রী ক্লাবের হয়ে টিফিনে এবং ছুটির দিনে প্রচার চালাই। আমাদের নিয়ে ছবি হওয়ায় খুব ভাল লাগছে। অন্যরা যদি এই ছবি দেখে উৎসাহ পায়, তাহলে আরও ভাল লাগবে।’’