হাসপাতাল চত্বর জুড়ে ঘুরে বে়ড়াচ্ছে কুকুরের দল। কখনও কখনও ক্যান্টিন থেকে রোগীর জন্য নিয়ে যাওয়া খাবারের উপরও লাফিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। রোগীর আত্মীয়দের গা ঘেঁষে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে তাদের। এই আত্মীয়েরাই কিন্তু পরে রোগীর কাছে যাবেন। সব মিলিয়ে কুকুরের উৎপাতে জেরবার হাসপাতালে আসা মানুষ। 

মাস খানেক আগে এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিওয় দেখা গিয়েছিল, হাসপাতালের ভিতরে এক মহিলার দেহ নিয়ে টানাটানি করছে কয়েকটি কুকুর। দাবি উঠেছিল, ওই ভিডিওটি বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজের। যদিও সেই দাবি অস্বীকার করেন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তদন্তে নামেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। হাসপাতালের কর্তাদের অনেকেই মেনে নিয়েছিলেন ওয়ার্ডের মধ্যে কুকুর-বেড়ালের দাপাদাপির কথা।

শুক্রবার বাঁকুড়া মেডিক্যাল চত্বরে গিয়েও দেখা গেল ছবিটা খুব একটা বদলায়নি। হাসপাতাল চত্বর জুড়ে রোগীর আত্মীয়দের ভিড়ের মাঝেই কুকুরের পাল হেঁটে বেড়াচ্ছে। খাবারের খোঁজে দাঁড়িয়ে রয়েছে হাসপাতালের ক্যান্টিনের সামনে। ক্যান্টিন থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগীদের খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরদের উৎপাত আরও বেড়ে যাচ্ছে। প্রায় লাফিয়ে খাবারের উপর ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ক্যান্টিনের কর্মীরা কোনও মতে তাদের তাড়াচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল চত্বরের নালা গুলিতেও খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। 

বাঁকুড়া মেডিক্যাল চত্বরে দাঁড়িয়ে পুরুলিয়ার বাসিন্দা চন্দন সর্দার বললেন, “দিদি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমাদের এখানে রাতও কাটাতে হচ্ছে। অন্ধকার নামলেই কুকুরের উপদ্রব বাড়ছে। রাতের দিকে বাইরে ঘোরাফেরাই করা যাচ্ছে না কুকুরের ভয়ে।” কেবল রোগীর আত্মীয়েরাই নন, কুকুরের উপদ্রবে বিরক্ত বাঁকুড়া মেডিক্যালের চিকিৎসকদের একাংশও। হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “রাতে ডিউটি করতে আসাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে কুকুরের দাপটে। কোনও গাড়ি ঢুকলে একসঙ্গে অনেক গুলি কুকুর তেড়ে আসে।’’

বাঁকুড়া মেডিক্যালের ভিতরে অবশ্য কুকুরের দেখা মেলেনি। বাঁকুড়া মেডিক্যালের সুপার গৌতম নারায়ণ সরকার বলেন, “কোনও ভাবেই যাতে কুকুর ভিতরে ঢুকতে না পারে তার জন্য কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের। ওঁদের তৎপরতাতেই হাসপাতালের ভিতরে কুকুর ঢোকার সমস্যা এড়ানো যাচ্ছে।’’

হাসপাতালের ভিতরে কুকুর ঢোকার সমস্যা ঠেকানো গেলেও হাসপাতাল চত্বরের ছবিটা বদলাবে কবে সেই প্রশ্ন থাকছেই। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান বলেন, “কুকুর তাড়ানোর পরিকাঠামো আমাদের নেই। তাই সমস্যার কথা পুরসভা ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।” 

হাসপাতাল সূত্রের খবর,  রাজ্যপুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ বিকাশের দফতরের সাহায্যে বেশ কয়েকমাস আগেই বাঁকুড়া পুরসভায় পথকুকুরদের নির্বীজকরণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রকল্পটির কাজের গতি নেই বলে অভিযোগ। 

বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ চত্বরের কুকুরের সমস্যা নিয়ে বাঁকুড়ার পুরসভার পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, “বাঁকুড়া শহর জুড়েই কুকুরদের নির্বীজকরণ করার প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে। ওই প্রকল্পে প্রথমেই আমরা বাঁকুড়া মেডিক্যাল চত্বরে ঘুরে বেড়ানো কুকুরদের তুলে নিয়ে গিয়ে নির্বীজকরণ করব।”