এই নিয়ে পরপর তিন বছর একটিই ঘরে হামলা চালাল হাতি। গত বছর শেষ বার এই সময়েই  সিমলাপাল ব্লকের দুবরাজপুর পঞ্চায়েতের জামবনি গ্রামের গুরুপদ দুলের ঘর ভেঙেছিল একটি হাতি। সেখানে আবার ঘর তুলেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাতি এসে ফের ভেঙে দিয়ে গিয়েছে। গুরুপদবাবুর অভিযোগ, তিনি ক্ষতিপূরণ পাননি। তবে বন দফতর দাবি করেছে, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি তাঁরা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়েছেন। তার মধ্যে গুরুপদবাবুর নাম রয়েছে কি না, বলতে পারেননি বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগের আধিকারিক দেবাশিস মহিমা প্রধান।

জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ঢোকার মুখে প্রথম ঘরটিই গুরুপদবাবু। ছিটেবেড়ার ছিল। গত বছর হাতি ভেঙে দেওয়ার পরে মাটির দেওয়াল তুলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ  একটি দলছুট দাঁতাল এসে ঘরের  দক্ষিণের দেওয়ালে দাঁত দিয়ে গুঁতো মারে। মাটির দেওয়াল পুরো ফেটে গিয়েছে।’’ তিনি জানান, ঘটনার সময়ে সপরিবার ঘরেই ছিলেন। হাতি ধাক্কা দিচ্ছে বুঝে পালিয়ে যান। একটি সাইকেল ভেঙে গ্রামের পাশের জঙ্গলে ফিরে যায় হাতিটি।

দুবরাজপুরের বিট অফিসার বাবলু কোটাল বলেন, ‘‘একটি দলছুট দাঁতাল দিন দুয়েক হল এই এলাকায় ঢুকেছে। গত রাতে জামবনি গ্রামে একটি  মাটির দেওয়াল ফাটিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। হাতির গতিবিধির উপরে লক্ষ রাখা হচ্ছে।’’ গুরুপদবাবুর অভিযোগ, প্রতি বছরই  বিট  এবং রেঞ্জ অফিস থেকে বন দফতরের লোকজন সরেজমিন গিয়ে সব দেখে আসেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা আর আসে না। বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগের আধিকারিক দেবাশিস মহিমা প্রধান বলেন, ‘‘বাড়ির মালিক লিখিত অভিযোগ জানালে বনাবিভাগের নিয়মানুযায়ী ঘটনাটি তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।’’ তিনি জানিয়েছেন, একটি  হাতি ওই এলাকায় থাকে।  কখনোও রূপনারায়ণ এলাকায় থাকে,  কখনো  সিমলাপালে চলে আসে।  বর্তমানে হাতিটি  সিমলাপালের আসনাতে রয়েছে।