সরকারি হিসেবই বলছে, গত দু’সপ্তাহে চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে জেলায়। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা আরও বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় গবাদি পশুর ‘লাম্পি স্কিন ডিজ়িজ’ নামে একটি রোগ ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত পনেরো দিনে মানবাজার ১ ব্লকের ভালুবাসা অঞ্চলের কর্মাট্যাঁড় গ্রামেই ৭টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রোগ দেখা দিচ্ছে ছাগলেরও। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের উপ-অধিকর্তা উত্তমকুমার বিশ্বাস বলেছেন, ‘‘জেলা জুড়ে বিক্ষিপ্ত ভাবে এই রোগের লক্ষণ দেখা গিয়েছে। আমরা মানুষকে সচেতন করছি। চিকিৎসা করলে এই রোগ সেরে যাবে।’’

পশুমৃত্যুর ঘটনায় খানিকটা চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে। কর্মট্যাড়ের বাসিন্দা তথা ভালুবাসা পঞ্চায়েত এলাকার কৃষি উন্নয়ন সমিতির চেয়াম্যান নেপাল মাহাতো বলেন, ‘‘পনেরো দিনে সাতটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এখন অনেক গবাদি পশু অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।’’ মানবাজার ১ ব্লকের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন আধিকারিক শুভঙ্কর মাহাতো জানান, সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই রোগের চিকিৎসা হয়। চলতি কথায় এই রোগকে বলে ‘পকস ক্যাটল’। তিনি বলেন, ‘‘চিকিৎসা করালে সম্পূর্ণ ভাবে রোগ সেরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গবাদি পশু সেরেও গিয়েছে। সেরাম সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।’’ 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক দিন আগে থেকে কর্মাট্যাঁড় গ্রামের বেশ কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। গবাদি পশুগুলির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলে যাচ্ছিল। তার পরেই অসুস্থতা শুরু হয়। কর্মট্যাড় গ্রামে বাসিন্দা বিকাশ মাহাতোর দু’টি গরু দিন কয়েক আগে মারা গিয়েছে। সত্যকিঙ্কর মাহাতো, ধ্রুবপদ পরামানিক, শক্তিপদ মাহাতোর একটি করে গবাদি পশু মারা গিয়েছে। রোগের লক্ষণ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের গ্রামেগুলিতেও। চেপুয়া, রাঙ্গাট্যাঁড়াতে গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। 

কিছু দিন আগে বাঁকুড়ার খাতড়ার কিছু কিছু এলাকায় গবাদি পশুর চর্মরোগ দেখা দেয়। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের দাবি, রোগ দিন আটেকের মধ্যে সেরে যাচ্ছে।