বাবা তুমি আর নেশা কর না। নেশা তোমাকে শেষ করে দিলে আমাদের কী হবে!— খুদে পড়ুয়াদের এমনই আর্তি উঠে এসেছে স্কুলের চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায়। সম্প্রতি পুরুলিয়া ১ ব্লকের ডুঁড়কু শ্রী অরবিন্দ বিদ্যাপীঠ মাদক ব্যবহারের অপকারিতা নিয়ে চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। প্রধান শিক্ষক শুভাশিস গুহনিয়োগী বলেন, ‘‘মাদক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে পড়ুয়ারাও যে গভীর ভাবে ভাবনা-চিন্তা করে, তা তাদের লেখা চিঠিগুলোতে ফুটে উঠেছে। অনেকেই নিজেদের এ সম্পর্কে কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছে। পড়তে গিয়ে আমাদেরও নাড়া দিয়েছে।’’

ধূমপান, খৈনি, গুটখা ইত্যাদির জেরে যে মারণব্যাধি পর্যন্ত হতে পারে, তা নিয়ে ছোটদের সচেতন করতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ভাবনা ন্যাশন্যাল হেলথ মিশনের। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতায় ডুঁড়কু শ্রী অরবিন্দ বিদ্যাপীঠ ওই চিঠি লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। 

পঞ্চম-ষষ্ঠ, সপ্তম-অষ্টম ও নবম-একাদশ শ্রেণি— এই তিনটি বিভাগে পড়ুয়াদের নিয়ে স্কুলে প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতার আগে পড়ুয়াদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বাবা বা বাড়ির কেউ ধূমপায়ী কিংবা তামাক, খৈনি বা গুটখা সেবন করলে, তাঁর উদ্দেশে নেশা করার অপকারিতার কথা জানিয়ে চিঠি লেখা যাবে। এ ছাড়া, স্কুল প্রাঙ্গণে ধূমপান করা অথবা তামাক, ঘুটকা, খৈনি সেবনের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে সতর্কতা জারি করার আবেদন জানিয়ে প্রধান শিক্ষককে চিঠি লিখতে বলা হয়েছিল। এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানকেও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে চিঠি লিখতে বলা হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ায় চিঠি লেখার চল প্রায় উঠেই গিয়েছে। অথচ ভাল চিঠি লেখাও শিল্পের সমান।’’

স্কুলের দশম শ্রেণির পড়ুয়া সুস্মিতা মাহাতো, অনুপমা পরামাণিক এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিল। তাদের বক্তব্য, ‘‘মাদক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে আমাদের বইয়ে লেখা আছে। চারপাশেও এ নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। তবুও, মাদকের ব্যবহার কমছে কই? এটা আমাদেরও কষ্ট দেয়। সেই অনুভূতির কথাই চিঠিতে লিখেছি।’’