দুঃস্থদের কাছে বিনামূল্যে পোশাক পৌঁছে দিতে মাস দুয়েক আগে ‘হাসির দোকান’ খুলেছিলেন বরাবাজারের কিছু যুবক-যুবতী। এ বারে  প্রশাসনের কর্তারাও তাঁদের সেই উদ্যোগে শামিল হলেন। কিসান মান্ডিতে দেওয়া হল ঘর। সোমবার বরাবাজার থানা চত্বরে তেমনই আরও একটি দোকানের উদ্বোধন হয়েছে। থানার দেওয়ালে লেখা হয়েছে— ‘গরীব অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে কাপড়ের দোকান। যাঁরা পোশাক দান করতে চান, তারা থানার ভিতরে বাক্সে দিয়ে যান।’

গত ২৫ অগস্ট বরাবাজারের অমিত মোদক, বর্ণালি চৌধুরী, সুস্মিতা সিংহ মোদক, উমা প্রামাণিকেরা কিসান মান্ডিতে চালু করেছেন ‘হাসির দোকান’। তাঁরা  পরিচিতদের কাছ থেকে পোশাক সংগ্রহ করেন। রবিবার, সাপ্তাহিক হাটের দিনে দোকান খোলা থাকে। যাঁর যেমন প্রয়োজন,পছন্দ মতো পোশাক নিয়ে যান। কোনও দাম দিতে হয় না। বিডিও (বরাবাজার) শৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ওই ছেলে-মেয়েরা খুব ভাল কাজ  শুরু করেছেন। আগে চত্বরে ওঁরা পোশাক মেলে দিতেন।  বৃষ্টির দিনে দোকান চালু রাখায় সমস্যা ছিল। পোশাকগুলি বান্ডিল করে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতেন। ওঁদের কাজের সুবিধার জন্য কিসান মান্ডিতে একটি স্টল দেওয়া হয়েছে। ওখানেই পোশাক রাখতে পারবেন।’’ 

এ দিন থানা চত্বরে বিডিও (বরাবাজার) শৌভিক ভট্টাচার্য ও আইসি (বরাবাজার) সৌগত ঘোষ নতুন দোকানের উদ্বোধন করেন। থানার বাইরের দেওয়ালে লেখা রয়েছে ‘হাসির দোকান’। রঙিন ফিতে আর বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল চত্বর। একটি বড় ট্রাঙ্কে জমা করা হচ্ছিল পোশাক। ‘হাসির দোকান’-এর অন্যতম উদ্যোক্তা বর্ণালি চৌধুরী বলেন, ‘‘পোশাক বেশি হলে আমরা গ্রামের দিকেও বেরিয়ে যাই। কোনও গ্রামের মোড়ে বা হাটে দোকান খুলে বসে যাই। অনেকেই সাগ্রহে পছন্দসই পোশাক নিয়ে যান।’’  

বিডিও বলেন, ‘‘এই কাজে শামিল হতে পেরে আমাদেরও ভাল লাগছে।’’ তাঁর প্রত্যাশা, এই কাজে আরও অনেকে এগিয়ে আসবেন।