গত কয়েকদিন ধরে গ্রামে উপদ্রব চালাচ্ছিল পূর্ণবয়স্ক একটি হনুমান। বিস্তর চেষ্টার পরেও তাকে ধরা যায়নি। অবশেষে শেষ পর্যন্ত ঘুমপাড়ানি গুলি করে তাকে বাগে আনল বন দফতর।

সোমবার দুপুরে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ২ ব্লকের সাঁওতালডিহি থানার চকবাইদ গ্রামে ঘুমপাড়ানি গুলি করে ওই পুরুষ হনুমানটিকে কাবু করেছেন বন দফতরের কর্মীরা। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরুলিয়া শহরের কাছে সুরুলিয়া ‘মিনি জ়ু’-তে। আপাতত সেখানে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে হনুমানটিকে। প্রশাসন হনুমানের আক্রমণে জখমদের চিকিৎসায় উদ্যোগী বলে জানান বিডিও (রঘুনাথপুর ২) মৃণ্ময় মণ্ডল।

স্থানীয় সূত্রের খবর, চকবাইদ গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে উপদ্রব চালাচ্ছিল হনুমানটি। গ্রামবাসীর দাবি, হনুমানের আক্রমণে জখম হয়েছেন প্রায় তিরিশ জন। হনুমানের তাণ্ডবে ঘর থেকে বেরনো দায় হয়ে পড়েছিল। লোক দেখলেই তেড়ে যাচ্ছিল। আঁচড়ে-কামড়ে জখম করেছে অনেককে।

হনুমানের উপদ্রবের কথা গ্রামবাসী পুলিশকে জানিয়েছিলেন। খবর গিয়েছিল বন দফতরেও। কিন্তু বন দফতরের কর্মীরা গ্রামে গিয়ে হনুমানটিকে ধরতে পারেননি। তাঁদের দেখলেই গাছের আড়ালে বা বাড়ির ছাদে লুকিয়ে পড়ছিল সে। মৃণ্ময়বাবু বলেন, ‘‘চকবাইদ গ্রামে হনুমানের উপদ্রব ক্রমশই বেড়ে যাওয়ায় আমরা বন দফতরকে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছিলাম। কর্মীরা ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে হনুমানটিকে কাবু করে সুরুলিয়া নিয়ে গিয়েছেন।”

সূত্রের খবর, বন দফতরের রঘুনাথপুর রেঞ্জ কার্যালয়ে ঘুমপাড়ানি গুলি ছিল না। পুরুলিয়া থেকে গুলি আনতে কিছুটা সময় লেগে যায়। বেলা ৩টে নাগাদ চকবাইদ গ্রামে দফতরের কর্মীদের সঙ্গে গিয়েছিলেন রঘুনাথপুরের বিট অফিসার শুভেন্দু বিশ্বাস। একটি গুলি ছুড়েই তিনি হনুমানটিকে কাবু করেন। শুভেন্দুবাবু জানান, তাঁদের দেখে হনুমানটি একটি বাড়ির ছাদে উঠে পড়েছিল। বন্দুক তাক করতেই লাফ মেরেছিল সে। সে সময় গুলি করা হয়। গুলি লাগার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে হনুমানটি।

হনুমানের আক্রমণে জখম গ্রামবাসী যাতে জলাতঙ্কের টিকা নেন, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী ব্লক প্রশাসন। সূত্রের খবর, কয়েকজন ইতিমধ্যেই ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা নিয়েছেন। অনেকে আবার এখনও তা নেননি। বিডিও জানান, জোরাডি পঞ্চায়েতের প্রধানকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।