নীরব থেকেই ভোটের দিন বার্তা ছিল জনতার
লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে বামেদের শক্তিক্ষয় অব্যাহত। বলীয়ান হয়েছে বিজেপি। ঘুম থেকে উঠে দুপুর পর্যন্ত একটানা টিভি দেখে সে তথ্য জেনেছেন ন’বারের সাংসদ বাসুদেববাবু।
basudev

বাসুদেব আচারিয়া। নিজস্ব চিত্র

ভোটের দিন তাঁর কাছে জনতা মুখ খোলেনি। সে নীরবতা কীসের ইঙ্গিতবাহী, বোঝেননি তিনি, বৃহস্পতিবার ফলের গতিপ্রকৃতি দেখে মানলেন বর্ষীয়ান বাম নেতা বাসুদেব আচারিয়া। অসুস্থতার কারণে হায়দরাবাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও, এ দিন তাঁর চোখ ছিল টিভির পর্দায়। দেখেছেন বামেদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের ছবি। বলেছেন, ‘‘লক্ষ্য করেছিলাম, নির্বাচনের দিন মানুষ মুখ খুলছেন না। আজ বুঝলাম, কেন নীরব ছিলেন।’’

লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে বামেদের শক্তিক্ষয় অব্যাহত। বলীয়ান হয়েছে বিজেপি। ঘুম থেকে উঠে দুপুর পর্যন্ত একটানা টিভি দেখে সে তথ্য জেনেছেন ন’বারের সাংসদ বাসুদেববাবু। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘ভাবতেই পারিনি এমন একটা ফল হতে যাচ্ছে।’’ সঙ্গে জুড়ছেন, ‘‘খারাপ ফলের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এমন বিপর্যয় ঘটবে, তা কল্পনাতেও ছিল না।’’ ফল সম্পর্কে তাঁর বিশ্লেষণ, ‘‘রুটি-রুজির লড়াইয়ের কথা গুরুত্ব পায়নি। উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের সন্ত্রাস এবং সেই সন্ত্রাসজনিত নিরাপত্তাহীনতা। এই দুই কারণেই মানুষ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। তবে আমাদের একটা অংশের ভোট যেমন গিয়েছে, রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধেও তাদেরই অনেকে ভোট দিয়েছেন।’’

অসুস্থতার কারণে এ বার খুব বেশি প্রচার করতে পারেননি বাসুদেববাবু। প্রচার সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন মূলত পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর এবং কাশীপুর এলাকায়। ভোটও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেই গ্যাসের ব্যথাজনিত অসুস্থতা মাথা চাড়া দেয়। ভর্তি করানো হয় বাঁকুড়ার একটি হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে হায়দরাবাদের বেসরকারি হাসপাতালে। তবে অসুস্থতার মধ্যেও রাজ্য রাজনীতির গতিপ্রকৃতির পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গিয়েছেন নিজের মতো করে। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামেরা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে গেলেন কি না জানতে চাওয়ায় জবাব দেন, ‘‘তা মনে করি না। সময় আছে। আলোচনা করতে হবে। মানুষের সামনে মৌলিক সমস্যাগুলি বারবার তুলে ধরতে হবে।’’ অভিজ্ঞ এই সিপিএম নেতা জানাচ্ছেন, আগামী মাসের গোড়ায় তাঁর জেলায় ফেরার কথা। ফিরে শুরু করতে চান, বুথভিত্তিক পর্যালোচনা। বুঝতে চান, কোথায় ‘খামতি’ রয়ে গিয়েছে।