আদালত নির্দেশ দিয়েছে তদন্ত করার। তার পরেও তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থলে না যাওয়াও ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘‘নির্দেশ পেয়েও পুলিশ অফিসার ঠান্ডা ঘরে বসে থাকবেন?’’

বীরভূমের এক নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনায় মঙ্গলবার সিআইডি-র জমা দেওয়া রিপোর্ট দেখে এ ভাবেই নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। একই সঙ্গে তিনি সিআইডি-র স্পেশ্যাল সুপার ও তদন্তকারী সংস্থার বীরভূমের ইনস্পেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২৩ অগস্ট আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের গাফিলতির কারণ দর্শাতে হবে।

মামলাকারীর আইনজীবী শম্পা সরকার এ দিন জানান, বীরভূমের নানুরের বাসিন্দা তাঁর মক্কেলের ১৬ বছরের মেয়ে গত বছর ২৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ। এর আগে হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনায় সিআইডি-র সাহায্য নিতে নানুর থানাকে নির্দেশ দেন। তা সত্ত্বেও মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়নি। মামলাটি এর পরে বিচারপতি বাগচীর এজলাসে যায়। গত ৬ অগস্ট আদালত সিআইডি-র স্পেশ্যাল সুপারকে নির্দেশ দেয়, তদন্তের অগ্রগতির যাবতীয় রিপোর্ট আদালতে জমা করতে।

এ দিন রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। আর তা পড়েই বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি বাগচী। তিনি বলেন, ‘‘নাবালিকার খোঁজে মুম্বইয়ের জে জে মার্গ থানা এলাকায় গিয়েছিলেন এক অফিসার। সেখানকার একটি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে না দেখে এবং সেই ফুটেজ বাজেয়াপ্ত না করেই ওই অফিসার ফিরে এসেছেন। এমনকী, যে টেলিফোন বুথ থেকে ওই নাবালিকা বাড়িতে ফোন করেছিলেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে, সেই পাবলিক টেলিফোন বুথের মালিক বা কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়নি!’’ বিচারপতি বাগচী এর পরে সরকারি কৌঁসুলির উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘‘তদন্তকারী কি মুম্বইয়ে জুহু বিচ ঘুরতে গিয়েছিলেন?’’ নাবালিকাকে উদ্ধার করা না হলে পরিণতি ভাল হবে না বলেও এ দিন বিচারপতি বাগচী হুঁশিয়ার করেছেন সরকারি কৌঁসুলিকে।