কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে মৃত্যু হয়েছিল স্বামীর। সেই খবর পাওয়ার পরে বাপের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক তরুণীর। শনিবার সকালে রামপুরহাট শহর এবং রামপুরহাট থানার নারায়ণপুর গ্রামে ওই দু’টি ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম সুমাদিশ বাউড়ি (২৬) ও রেখা বাউড়ি (২০)। তাঁরা থাকতেন রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বামনিগ্রামে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, দু’টিই আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িচালক সুমাদিশের সঙ্গে বছর দু’য়েক আগে বিয়ে হয়েছিল রেখার। দিনকয়েক আগে ওই তরুণী নারায়ণপুর গ্রামে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে গাড়ি নিয়ে স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে আনতে গিয়েছিলেন সুমাদিশ। কিন্তু রেখা বামনিগ্রামে ফিরতে চাননি। তা নিয়ে ওই দম্পতির মধ্যে বচসা হয়।

সুমাদিশের শাশুড়ি গৌরী লেট বলেন, ‘‘জামাই অনেক রাতে আমাদের বাড়ি এসেছিল। আমরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাতেই মেয়েকে রামপুরহাটে নিয়ে যেতে চেয়েছিল সুমাদিশ। মেয়ে যেতে রাজি হয়নি। তা নিয়ে দু’জনের কথা-কাটাকাটি হয়। জামাই রাগ করে চলে যায়।’’ গৌরীদেবী জানান, এর পরে বারবার সুমাদিশের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি তা ধরেননি।

গৌরীদেবী পুলিশকে জানিয়েছেন, শনিবার সকালে তাঁর মেয়ে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে মাঠের দিকে দৌড়ে চলে যায়। পড়শিরা আগুন নিভিয়ে তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁরা জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে রেখাকে ফোন করে বলা হয়েছিল, সুমাদিশ কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে মারা গিয়েছে। তা শুনেই ওই তরুণী গায়ে আগুন লাগান। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।

সুমাদিশের বাবা সেণ্টু বাউড়ি বলেন, ‘‘শুক্রবার সন্ধ্যায় ছেলে বাড়ি থেকে গাড়ির ভাড়া আছে বলে বেরিয়ে গিয়েছিল। শনিবার ভোর চারটে নাগাদ বাড়ি ফেরে। সকালে আমি, আমার স্ত্রী কাজে বেরিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি ছেলে বাড়িতে রাখা কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গাড়ির মালিক ছেলের খোঁজে বাড়িতে এসে দেখেন ও মাটিতে পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে।’’

গাড়িমালিক বিশ্বজিৎ আচার্য বলেন, ‘‘সকালে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে যেত সুমাদিশ। শনিবার ও আসছে না দেখে ফোন করি। পরে বাড়িতে গিয়ে দেখি ও মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। সামনে কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল পড়ে।’’ তিনি জানান, পড়শি কয়েক জনকে ডেকে রামপুরহাট মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত করা হচ্ছে। দু’টি দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।