প্রথমে একপ্রস্ত কথা কাটাকাটি। তার পরে মোটরবাইকে তাড়া করে স্ত্রীকে লক্ষ করে অ্যাসিড ছোড়ার অভিযোগ উঠল যুবকের বিরুদ্ধে। দিদিকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছে বোনও। দু’জনেই রামপুরহাট সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। চোখের সামনে গোটা ঘটনাটি দেখেও আশপাশের লোকজন অভিযুক্তকে ধরতে বা আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাটুকু করেনি বলে অভিযোগ। নলহাটি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বুধবার বিকেলের ঘটনা। এলাকার বাসিন্দা, জামাই রনি শেখের বিরুদ্ধে নলহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আক্রান্তের বাবা। ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা পরে বৃহস্পতিবারও অভিযুক্তের সন্ধান পায়নি পুলিশ।

রামপুরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণীর বোন জানায়, দু’বছর আগে রনিকে ভালবেসে বিয়ে করে দিদি। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, শ্বশুর নানা ভাবে শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করত বলে অভিযোগ। আক্রান্তের বাবার দাবি, ‘‘শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে সাত দিন আগে মেয়ে বাড়ি পালিয়ে আসে।’’ বৃহস্পতিবার বিকেলে বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে দুধের প্যাকেট কিনতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। ফেরার পথে রনি পথ আটকায় বলে পরিবারের দাবি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আক্রান্তের বোনের কথায়, ‘‘জামাইবাবু দিদিকে সন্দেহ করে। এ দিন রাস্তার মধ্যেই শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। দিদি বলেছিল, অত্যাচার আর সহ্য করতে পারবে না। তাই শ্বশুরবাড়ি আর যাবে না। তখন একপ্রস্ত কথা কাটাকাটি হয়।’’ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আক্রান্ত কিশোরী বলে, ‘‘কথা বলার ফাঁকেই স্বামীর হাতে থাকা অ্যাসিডের বোতল থেকে কয়েক ফোঁটা অ্যাসিড বোনের হাতে পড়ে। বোন বুঝতে পেরে আমাকে সাইকেলের পিছনে বসিয়ে সাইকেল চালানো শুরু করে। পিছন থেকে রনি মোটরবাইকে এসে অ্যাসিড ছুড়ে দেয়।’’

হাসপাতালের বিছানায় রানি।—নিজস্ব চিত্র।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, মুখের ডান দিকে, গলার এবং ডান হাতের কিছুটা অংশ অ্যাসিডে পুড়ে গিয়েছে। তবে কিশোরীর বোনের আঘাত কম। হাতে, মুখে অ্যাসিডের ছিট্ লেগেছে। দু’জনেই চিকিৎসাধীন। তবে পরিবারের দাবি, দু’জনের দিকে অ্যাসিড ছুড়ে এক যুবক মোটরবাইকে পালিয়ে যাচ্ছে দেখেও এলাকার বাসিন্দারা তাকে ধরতে কোনও পদক্ষেপ করেনি। কোনও রকমে বাড়ি পৌঁছে তারা ঘটনার কথা জানায়। প্রথমে থানায় ঘটনার কথা জানিয়ে নলহাটি ১ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে নলহাটি থেকে রামপুরহাটে স্থানান্তর করা হয়।

অ্যাসিড বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার পরেও কী করে ওই যুবক অ্যাসিড পেল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। পুলিশ, প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর আর্জি, দোষীকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।