প্রতারণার অভিযোগে ধৃত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা ও তাঁর সহযোগীকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বাঁকুড়া আদালত। শনিবার ধৃতদের বাঁকুড়া আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা ও বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে উমেশ দাস ও তাঁর সহকারী জয়দেব দত্তকে গ্রেফতার করে। ধৃত উমেশ দাস দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিজেপির পশ্চিম ভাগের সহ-সভাপতি। 

বাঁকুড়া জেলা পুলিশের দাবি, বাঁকুড়া সদর থানার এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, উমেশবাবু তাঁকে কিছু জিনিস বিক্রি করার জন্য আড়াই লক্ষ টাকা নেন। কিন্তু টাকা নিয়েও সেই জিনিস তিনি দেননি। টাকাও ফেরত দেননি। বাঁকুড়ার জেলা পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

তবে, এ দিন বাঁকুড়া আদালত চত্বরে উমেশবাবু ও জয়দেববাবু দু’জনেই দাবি করেন, “বিজেপি করি বলে রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা অভিযোগে আমাদের গ্রেফতার করানো হয়েছে। আসল লক্ষ্য ভোটের আগে তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এলাকা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত করে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে।’’ 

শুক্রবার বিজেপির ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা তৃণমূল সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী। এ দিন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁ-ও দাবি করেন, ‘‘তৃণমূল গণতান্ত্রিক দল। ওঁদের কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, তা পুলিশই বলতে পারবে।” 

বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে আইনজীবীরা এখন কর্মবিরতি করছেন। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়া আদালতে ওই দুই নেতাকে পুলিশ হেফাজতে চেয়ে আইনজীবীরা আবেদন করলেন কী ভাবে? বাঁকুড়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘কর্মবিরতি চললেও নিম্ন আদালতে সরকারি আইনজীবীরা মামলা লড়ছেন।’’ 

যদিও বাঁকুড়া বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রূপক ভট্টাচার্যের পাল্টা দাবি, ‘‘সমস্ত আইনজীবীই কর্মবিরতি করছেন বলে জানি। ওই মামলায় কী হয়েছে, খোঁজ নিতে হবে।’’