বীরভূমের লোকপুরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর মতে, ফাঁকা বাড়িতে যে কেউ বোমা রাখতে পারে। সাংবাদিকেরাও খবরের স্বার্থে বোমা রেখে আসতে পারেন। 

শনিবার সাঁইথিয়ায় একটি নবনির্মিত বাসস্ট্যান্ডের উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন অনুব্রত। খয়রাশোলের লোকপুরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরণে বাড়ির চাল উড়ে যাওয়া নিয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতির প্রতিক্রিয়া চেয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই প্রশ্নকর্তাকে অনুব্রত সোজাসাপ্টা বলে বসেন, ‘‘ওটা তো ফাঁকা বাড়ি। সাংবাদিকদের খবর নেই, খবরের স্বার্থে ফাঁকা বাড়িতে বোমা তুমিও রাখতে পার।’’

দুবরাজপুর ও খয়রাশোলের বিভিন্ন থানা এলাকায় গত চার সপ্তাহে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে চারটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। অনুব্রতকে সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়, কেন বারবার তৃণমূল নেতা কর্মীদের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটছে। অনুব্রতের তাৎক্ষণিক জবাব, ‘‘হাইলাইট হবে বলে। তোমার চ্যানেলে দেখাবে সেই জন্য।’’ বীরভূম থেকে কেন এত বোমা উদ্ধার হচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত অবশ্য বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘লোকসভায় অশান্তির জন্য বিজেপি বোমা এনেছিল। সেগুলোই উদ্ধার করছে পুলিশ।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকপুর থানার গাংপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবলু মণ্ডলের বাড়িতে মজুত করে রাখা বোমা বিষ্ফোরণের জেরে টিনের চাল উড়ে গিয়েছিল। বাবলুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয় তৃণমূল বিজেপির মধ্যে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাবলু বিজেপি নেতা। এলাকায় অশান্তি পাকাতেই বাড়িতে বোমা রাখেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি দাবি করে, বাবলু তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর লোক। কী কারণে বোমা মজুত ছিল তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিন্তু এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা প্রশ্ন করতে থাকায় অনুব্রত বলে দেন ওই বাড়িটি ফাঁকা ছিল। সেখানে যে কেউ বোমা রাখতে পারে এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও রাখতে পারেন।  

যা শুনে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা বলেন, ‘‘সংবাদ মাধ্যমই তো ওঁকে মাথায় তুলেছে। বোমা রাখছ বলে সেই ভালবাসার প্রতিদান দিচ্ছেন তিনি!’’ আর বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘মানসিক ভারসাম্য ঠিক রয়েছে তো ওঁর? বড় চিন্তা হচ্ছে।’’